চাকরি খুইয়ে ইয়াবা বেচতেন নবাবগঞ্জের সালাউদ্দিন

263
চাকরি খুইয়ে ইয়াবা বেচতেন নবাবগঞ্জের সালাউদ্দিন

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ইয়াবা বহন করে নিয়ে আসতেন নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বরখাস্ত হওয়া এএসআই সালাউদ্দিন (৩৬)। পরবর্তী সময়ে সেই ইয়াবা নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পাচার করতেন। গতকাল সোমবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকার একটি কোরবানির হাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির নগদ টাকা, ইয়াবা সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের একটি জ্যাকেটসহ সালাউদ্দিন ও তার গাড়িচালক মো. রনিকে (৩২) আটক করেছে র্যাব-১১।

সালাউদ্দিন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা কালুয়াহাটি গ্রামের জুমনের ছেলে। আদমজীনগর র্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সালাউদ্দিনকে আটকের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিয়মিত মাদকের মামলা রুজু করেছে র্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আশিক বিল্লাহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোররাতে এএসপি নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে মৌচাক এলাকার অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটে অভিযান চালিয়ে সালাউদ্দিনকে আটক করা হয়। এ সময় হাটে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে নিয়ে তার একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়। ওই প্রাইভেটকার থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির নগদ ২ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫০ টাকা, নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের জ্যাকেট, গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়পত্র, ৪টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সালাউদ্দিন জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশে এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অন্য খবর  নবাবগঞ্জে সড়ক দখল করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এর আগে চলতি বছরের ২৩ জুলাই র্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল সালাউদ্দিনের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলী এলাকায় ফ্রেন্ডস টাওয়ার ও সদর থানার নগরখানপুর এলাকায় দুটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৫ হাজার ৬২০ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ ৯ লাখ ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে ওই সময় সালাউদ্দিন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার সহযোগী সুমনকে (২৫) গ্রেপ্তার করে র্যাব। সুমনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী র্যাব সালাউদ্দিনের ওপর নজরদারিসহ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রাখে।

সুমন র্যাবকে আরও জানায়, সালাউদ্দিন নিজেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টেকনাফ থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে ইয়াবা বহন করে নিয়ে আসতেন। পরে সেই ইয়াবা নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পাচার করতেন। জাসিম, ওসমান ও বাহাদুর নামের তিনজন ব্যক্তিগত গাড়িচালকও আছে তার। নারায়ণগঞ্জ শহরে রয়েছে ‘জেন্টস পার্লার’ নামে বিউটি পার্লার। সালাউদ্দিনের মাদককারবারের আর্থিক হিসাব দেখাশোনার জন্য রয়েছে ব্যক্তিগত সহকারী। সুমন নিজে বেতনভোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সালাউদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারীর দায়িত্ব পালন করে আসছিল। জাসিম, ওসমান ও বাহাদুর প্রাইভেটকারে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন মাদক স্পটে নিয়মিত ইয়াবা পৌঁছে দেয়। ইয়াবাকারবারিদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে সুমন সালাউদ্দিনের নির্দেশমতো ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং ও এসএ পরিবহনের মাধ্যমে কক্সবাজারের ইয়াবাকারবারিদের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠাত।

অন্য খবর  গাসের আগুনে ঝলসে গেলেন মোয়াজ্জিন

Comments

comments