চাঁদাবাজি ও চুরির অভিযোগে বাড্ডার ওসিসহ ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা

167
ভুয়া মামলা

চাঁদাবাজি ও চুরির অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। আদালতে মামলা দায়েরের পর বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছাড়া বাকি আসামিদের মধ্যে দুইজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), তিনজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং একজন আইনজীবী। বাকিদের পেশাগত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম শুনানি শেষে ওই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ৭ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন।

আরজিতে বলা হয়েছে, পুলিশের এএসআই দীন ইসলাম বাদীর বাসার তালা ভেঙে ২০ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করেছেন। মামলার আসামি জাহানারা বাদীর জমির মালিকানার কাগজপত্র চুরি করেছেন। এর আগে দীন ইসলাম বাদীর ছেলেকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন।

রবিনকে হুমকি দিয়ে এসআই শহীদ বলেন, ‘আকাশের যতগুলো তারা, পুলিশের ততগুলো ধারা। শালা, তোদের মার্ডার কেসে ঢুকাইয়া দেব। ’ রবিনকে অপর পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই দীন ইসলাম হুমকি দিয়ে বলেন, ‘শালা, তোকে পাঁচতলা থেকে লাথি মেরে মাইরা ফালাব। ’ দীন ইসলাম আরও বলেন, ‘হারিছ মিয়া (বাদীর প্রতিবেশী) কোথায় গেল। তারে ডেকে নিয়ে… (অশালীন শব্দ) গরম ডিম ঢুকাব। ’

অন্য খবর  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ও অসাংবিধানিকঃ হাইকোর্ট

বাদীর আইনজীবী ইসমাইল মির্জা বলেন, মামলার আসামি জাহানারা রশিদ বাদীর (নুরুন্নাহার নাসিমা বেগম) সতিনের মেয়ে। তাদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলা চলছে। জাহানারার বাসায় বিদ্যুৎ- সংযোগ নেই। এ কারণে তিনি ডেসকোর কর্মকর্তাদের ডেকে বাদীর বাসা থেকে বিদ্যুৎ-সংযোগ দিতে বলেন।

কিন্তু বাদী এতে রাজি না হলে উল্টো জাহানারা বিদ্যুৎ অফিসের দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। পরে বাড্ডা থানা-পুলিশের সহযোগিতায় জাহানারা বাদীকে ভয়ভীতি দেখান। পরবর্তী সময়ে ওসির নির্দেশে এএসআই দীন ইসলাম ও এসআই শহীদ বাদী এবং তার সন্তানদের মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন।

গত ২৬ মে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা ওসির নির্দেশে বাদীর ভাড়াটেদের বের করে দিয়ে ফ্ল্যাটে তালা ঝুলিয়ে চাবি নিয়ে যান। পরে থানায় ওই চাবি নিতে গেলে বাদীর কাছে পুলিশ ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

সর্বশেষ গতকাল শনিবার ওসি জলিলের নির্দেশে পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ ও দীন ইসলামসহ পুলিশের আরও পাঁচ-ছয়জন সদস্য বাদীর ছেলে রবিন দেওয়ানকে জাহানারার বাসায় বিদ্যুৎ-সংযোগ দিতে বলেন। রবিন এতে না বললে, দীন ইসলাম ও শহীদ তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। পরে হাতুড়ি দিয়ে মিটারের বাক্সের তালা ভেঙে মামলার আসামি বিদ্যুৎ মিস্ত্রি শুকুর আলীর মাধ্যমে জাহানারার বাসায় বিদ্যুৎ-সংযোগ দেন।

অন্য খবর  মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলায় দোহারের এক নারীর কারাদন্ড

রবিনকে হুমকি দিয়ে এসআই শহীদ বলেন, ‘আকাশের যতগুলো তারা, পুলিশের ততগুলো ধারা। শালা, তোদের মার্ডার কেসে ঢুকাইয়া দেব। ’

 

Comments

comments