জামাল খাশোগি

ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মার্কিন সিনেটকে ব্রিফ করবে দেশটির প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রধান গিনা হ্যাসপেল এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান পার্টির সিনেটরদের কাছে তদন্তের বিস্তারিত জানাবেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ইতোমধ্যেই সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর খাশোগি হত্যার অডিও রেকর্ড শুনেছেন সিআইএ প্রধান। রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার তার সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্র ও সামরিক বিষয়ক কমিটির সদস্যরা অংশ নেবেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, কানাডায় নির্বাসিত এক সৌদি অ্যাকটিভিস্টের কাছে খাশোগির পাঠানো ৪০০-এরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। হত্যার শিকার হওয়ার আগের এক বছরে অ্যাকটিভিস্ট ওমর আব্দুল আজিজকে মেসেজগুলো পাঠিয়েছিলেন খাশোগি। এসব মেসেজে, সৌদি যুবরাজকে প্রায়ই জানোয়ার ও গ্রাসকারী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করতেন তিনি। এ হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজগুলো খাশোগি হত্যারহস্য উদঘাটনের সূত্র হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে সিএনএন।

৫৯ বছর বয়সী খাশোগি একসময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। গ্রেফতার এড়াতে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান খাশোগি। দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে হত্যার শিকার হন তিনি। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সৌদি আরব জানায়, ইস্তানবুলের কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে খুন হন তিনি। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, সৌদি আরবের ‘শীর্ষ পর্যায়’ থেকে হত্যার নির্দেশ এসেছে।

অন্য খবর  সিআইএর প্রথম নারী পরিচালক জিনা হ্যাসপল

হত্যার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও খাশোগি হত্যা রহস্যের সুরাহা এখনও হয়নি। এরমধ্যেই কানাডায় নির্বাসিত সৌদি অ্যাকটিভিস্ট ওমর আব্দুল আজিজকে খাশোগির পাঠানো চার শতাধিক মেসেজ হাতে পেয়েছে সিএনএন। আব্দুল আজিজই মেসেজগুলো সিএনএন-কে দিয়েছেন।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই মেসেজগুলোতে খাশোগি সৌদি যুবরাজের সমালোচনা করেছেন। যুবরাজকে নিয়ে শঙ্কা ছিল তার। একটি মেসেজে তাকে বলতে দেখা গেছে, ‘যত বেশি শিকার করতে পারেন, ততবেশি তার (সৌদি যুবরাজ) শিকারের আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়।’ আরেকটি মেসেজে সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে খাশোগি লিখেছেন, ‘তিনি জোরজবরদস্তি, দমন-পীড়ন পছন্দ করেন এবং সেগুলো দেখানোর প্রয়োজনবোধ করেন, তবে অত্যাচারের পেছনে কোনও যুক্তি থাকে না।’

Comments

comments