খালেদা জিয়ার ৬ শর্ত বাস্তবায়নযোগ্য নয়: তোফায়েল

108

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে ছয়টি শর্ত দিয়েছেন তা ‘বাস্তবায়নযোগ্য নয়’ বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সংলাপ কিংবা আলোচনার প্রয়োজন নেই।

রোববার বিকেলে ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে (শনিবার) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় খালেদা জিয়া ছয়টি শর্ত দেন। তাঁর শর্তগুলো হচ্ছে:

১. ভোট হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে

২. জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আসার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে

৩. ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে

৪. নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে

৫. ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোবাইল ফোর্স হিসেবে কাজ করবে

৬. যন্ত্রে ভোটের জন্য ইভিএম/ডিভিএম ব্যবহার করা যাবে না।

খালেদা জিয়ার এসব শর্তের বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘চলতি বছর নির্বাচনের বছর। নির্বাচনের তারিখ নির্বাচন কমিশন দেবে। আমাদের মেয়াদ আছে আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। তার আগের ৯০ দিনের মধ্যে যেকোনো দিন নির্বাচন হবে। একটি রাজনৈতিক দল ছয়টি শর্ত দিয়েছে। এই শর্ত বাস্তবায়নযোগ্য নয়। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুসারে।’

অন্য খবর  বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পদ্মায় পানি আরো বাড়তে পারে

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট-বড় করতে পারেন। এই সরকার দৈনন্দিন কাজ করবে। সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করবে নির্বাচন কমিশন। সুতরাং সংলাপ কিংবা আলোচনার প্রয়োজন নেই। সংবিধানের বাইরে যাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।’

বিএনপির নাম উল্লেখ না করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৩ সালে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার চেষ্টা করেছিল একটি রাজনৈতিক দল। ২০১৪ সালে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছিল। পুলিশ হত্যা করেছিল। মায়ের কোলের নিষ্পাপ শিশুকে পেট্রলবোমা মেরে করেছিল। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে খুন করেছে। কিন্তু লাভ হয়নি। ২০১৫ সালে ৯৩ দিন হরতাল অবরোধের নামে অর্থনীতিকে পঙ্গু করার চেষ্টা করেছে। আমার মনে হয়, সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে কোনো রাজনৈতিক গোলযোগ সৃষ্টি করেনি।’

মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রীর সহধর্মিণী আনোয়ারা আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও সদস্য লায়লা আঞ্জুমান বানু, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য।

Comments

comments