কেরানীগঞ্জ থেকে অপহৃত শিশু ১৮ দিন পর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

268

ঢাকার কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ মান্দাইল থেকে অপহৃত শিহাব নামে সাড়ে ৪ বছরের এক শিশুকে বুধবার গভীর রাতে শরীয়তপুরের নড়িয়া থেকে উদ্ধার করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ৬ অপহরনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি সকালে বাসার পাসের মাঠে খেলতে গিয়ে শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরদিন এ ঘটনায় শিশুটির বাবা জামাল বেপারী বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। প্রথমে ঘটনটি নিখোঁজ বলে ভাবা হলে ১৬ জানুয়ারী মুঠোফোনে শিশুটির মায়ের কাছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবি করা হয়। এতে শিশুটি অপহৃত হয়েছে বলে জানা যায় এবং নিখোঁজ জিডিটি অপহরণ মামলায় রুপ নেয়। পরে শিশুটির পরিবার বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ হিসেবে ৫৩ হাজার টাকা অপহরনকারীদের দেয়া মোবাইল নাম্বারে পাঠিয়ে দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই বিজন কুমার দাস জানান, যে নাম্বারে বিকাশ করে মুক্তিপণ দেয়া হয়েছিল তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারি সেটা ডলি নামে এক মহিলার নামে রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। এরপর সেই সূত্র ধরে রাজধানীর বাড্ডা থেকে তাকে গেপ্তার করি। এরপর ওই মহিলার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অপহরনের মুলহোতা আলমগীরকে মান্দাইল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যমতে, বুধবার গভীর রাতে শরীয়তপুরের নড়িয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় আনাখন্ড গ্রামে আলমগীরের নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আলমগীরের প্রথম স্ত্রী আসমার হেফাজত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে আলমগীরের স্ত্রী আসমা বেগম, তার ভাই জাকির শেখ, আওলাদ শেখ ও ইমরান শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্য খবর  দোহার প্রেসক্লাব সেক্রেটারির দোকানে নাশকতার চেষ্টা

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার সময় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানান, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আলমগীর। তিনি ভিকটিম শিশু আব্দুর রহিমদের সাথে দক্ষিণ মান্দাঈল এলাকার হাজি মোঃ পাপ্পু মিয়ার ভাড়াটে ভাড়িতে ভাড়া থাকতেন। আলমগীর আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য শিশুটিকে অপহরণ করেছিল বলে জানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত এক বছর আগে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধিন রুহিতপুর এলাকায় শিশু আব্দুল্লাহ অপহরণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আমরা সে দিকটি লক্ষ রেখে কাজ করেছি যাতে এই শিশুটিকে আমরা জীবিত উদ্ধার করতে পারি এবং আমরা তা পেরেছি।

Comments

comments