কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের ইফতারে চড়াও থানার ওসি

259
শাহীন আহমেদ
ছবিঃ বাংলানিউজ২৪
বিজ্ঞাপন

রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থানার ওসি শাহীন ফকিরের উসকানিতে খাদ্যমন্ত্রীর সমর্থকরা কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের ইফতার মাহফিলের অতিথিদের ওপর হামলা করেছে। এতে ছাত্রলীগের দুই নেতাসহ সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ওসি মাদরাসায় গিয়েও হুমকি-ধমকি দিয়েছেন বলে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, শাহীন আহমেদ ঢাকা-২ আসন থেকে নৌকার টিকিটে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ইফতার অনুষ্ঠানে আসা সমর্থকদের ওপর এ হামলা চালানো হয়। কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার অভিযোগ, তাঁদের ভয় দেখাতে ওসি বাড়িতে পুলিশি তল্লাশি চালিয়েছেন এবং মাদক মামলার হুমকি দিয়েছেন। ওসি শাসিয়ে দিয়ে বলেছেন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ছাড়া কামরাঙ্গীর চরে আওয়ামী লীগের আর কারোর পোস্টার থাকবে না।

নেতাকর্মীরা জানায়, গত শুক্রবার কামরাঙ্গীর চরের মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। মাদরাসার শিক্ষক মো. আশরাফ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, থানার পক্ষ থেকে কয়েক দফা এসে ইফতার পার্টি বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তারা জানতে চায়, কেন শাহীন আহমেদকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলো। মাদরাসার অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন যশোরীও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। কামরাঙ্গীর চর থানার ওসি নিজে উপস্থিত হয়ে শাহীন আহমেদকে অতিথি করার কারণ জানতে চেয়েছিলেন বলে তিনি জানান।

জানা যায়, সব বাধা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠান ধরে রাখতে চাইলে উত্তেজনা বাড়ে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ইফতার পার্টির উদ্দেশে রওনা দেয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে তাদের সহিংসতার সঙ্গে পথরোধ করে কামরুল সমর্থকরা। একপর্যায়ে তাদের হামলায় কয়েকজন আহত হয়। তাঁদের মধ্যে সালমান (৩৬), নাঈম (২৩) ও রায়হানকে (২৩) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সালমানের মাথায় জোরে আঘাত করা হলে তিনি রক্তাক্ত হয়ে পড়েন।

অন্য খবর  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনঃ বিবেচনায় আবদুল হামিদ

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাহীন আহমেদকে ঠেকাতে তৎপর রয়েছেন খাদ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা কামাল সরকার, কামরাঙ্গীর চর থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক পারভেজ হোসেন বিপ্লব, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শিমুলের নেতৃত্বে অসংখ্য ক্যাডার বাহিনী। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সমর্থকদের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়ে হামলার প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেন ওসি শাহীন ফকির।

কামরাঙ্গীর চর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান রতন জানান, মাদরাসা এলাকায় হামলার পর খাদ্যমন্ত্রীর অনুসারী ক্যাডার বাহিনী ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘরেও তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় পুলিশও তল্লাশির নামে হয়রানি করে। রতন বলেন, ‘ঘটনা কামরাঙ্গীর চরের মাদরাসাকে ঘিরে হলেও পুলিশ আমার পুরান ঢাকার বনগ্রামের বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। সঙ্গে ছিল কামরুল ইসলামের কয়েকজন সমর্থকও।’ তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘শাহীন আহমেদের সমর্থক বলে থানায় ডেকে নিয়ে হুমকি দিচ্ছেন থানার ওসি শাহীন ফকির। ওসি বলছেন, শাহীনের পক্ষ না ছাড়লে আমার বাড়ির ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাবে। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করে ক্রসফায়ার দিবে।’

অন্য খবর  সদস্যপদে দাদা-নাতির ভোট যুদ্ধ

ওসি একইভাবে থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মাসুদ মিন্টু ও মোরসালীন হোসেনকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, তাঁদের অভিভাবকদেরও থানায় ডেকে নিয়ে তাঁদের সন্তানদের ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। সূত্র মতে, ওসি ছাত্রনেতা ও তাদের অভিভাবকদের বলেছেন, ‘খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ছাড়া কামরাঙ্গীর চরে কোনো নেতার পোস্টার থাকবে না, তাঁর বাইরে কোনো রাজনীতি থাকবে না। কামরুল ইসলামই নৌকার নমিনেশন পাইব, আমার কথার বাইরে যারা কাজ করবে তাদের খবর আছে। আমি সাবধান কইরা দিতেছি।’

জানা যায়, গত ২৭ মে থানায় ডেকে নিয়ে হুমকি দেওয়া হয় এবং ৬ জুন ছাত্রলীগ নেতা রতন, মিন্টু ও মোরসালীনের বাড়িতে মাদক উদ্ধারের নামে তল্লাশি চালানো হয়। সাইদুর রহমান রতন বলেন, বহুবার শাহীন আহমেদের সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে কামরুল ইসলামের সমর্থকরা। কোনো ঘটনায়ই পুলিশ মামলা বা অভিযোগ গ্রহণ করেনি। ফলে এখন এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তারা থানায় অভিযোগ দেন না।

ছাত্রনেতাদের অভিভাবকরা বলেন, এ পরিস্থিতিতে তাঁরা সন্তানদের নিরাপত্তাহানির আশঙ্কা করছেন।

Comments

comments