কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ

132
কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ
বিজ্ঞাপন

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ করেছে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া থেকে নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী এন মল্লিক পরিবহনের স্বত্বাধিকারী নার্গিস মল্লিক।

বুধবার (৯ মে) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র‍্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন তি‌নি।

নার্গিস মল্লিক বলেন, ‘আমি একজন বিধবা এবং পরিবহনের ব্যবসাটি আমার পারিবারিক ব্যবসা। আমার পরিবহনে ২ শতাধিক লোক কর্মরত রয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে কেরানীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান শাহিন আহম্মেদ ও তার লোকজন নানা অজুহাতে চাঁদার দাবিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমার কর্মচারীদের হয়রানি, উত্যক্ত ও জুলুম-নির্যাতন করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৬৪৭৫) ঢাকা থেকে নবাবগঞ্জ যাবার পথে কেরানীগঞ্জের সাকতা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রী দৌড়ে রাস্তা পার হবার চেষ্টা করে। এ সময় চালক বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে আত্মরক্ষার্থে গাড়িটি রং সাইডে নিয়ে যায় এবং মেয়েটির সাথে ধাক্কা লাগায়। মেয়েটি সামান্য ব্যথা পায় এবং ঘটনার পর মেয়েটির চিকিৎসাসহ অন্যান্য ক্ষতিপূরণের দায়ভার আমি নেই।’

অন্য খবর  নবাবগঞ্জে এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা

তিনি জানান, মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়ার পর ২৭ এপ্রিল নিউ মডার্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় এবং আমি ১০  হাজার টাকা বিল পরিশোধ করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করি।  যদিও ঘটনাস্থলে শাহিন চেয়ারম্যানের লোকজন গাড়িটি ভাঙচুর করে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে ও গাড়িটি আটকে রেখে দেয়। এছাড়া গাড়িতে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৭৫ টাকা মূল্যের আমার প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রাংশ ছিলো। সে ওই গাড়ির ড্রাইভার জসিমকে মারধোর করে গুম করে রাখে। পরবর্তীতে রায়ের কাছে অভিযোগ করায় রাত ১২টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়।

তিনি বলেন, ‘ওই দিনই দুপুর ১ টায় শাহিন চেয়ারম্যানের নির্দেশে একই এলাকায় আরেকটি গাড়ি আটকে রেখে ভাঙচুর করে ও ড্রাইভার ফালানকে  মারধোর করে মাথা ফাটায় দেয়। পরবর্তীতে তার মাথায় পাচটি সেলাই লেগেছিলো। তারা গাড়িতে আগুন দেয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় গাড়িটি রক্ষা করতে পেরেছি। এরপর আমার দুই জন কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন ও ঝিলু ফকিরকে শাহিন চেয়ারম্যানের নিকট পাঠানো হলে তারা এই দুইজন কে মারধর করে এবং বলে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বললেও এই রুটে এন মল্লিক পরিবহন এর গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না।’

অন্য খবর  ফিরে দেখা ২০১৪: ১ বছরে ২৯ ডাকাতি

তার ভাষ্য, ‘গত ২৮ এপ্রিল দুপুর ১১টার দিকে আরেকটি গাড়ি আটক করে এবং ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে  ৩০ হাজার টাকা দেয়ার পর লোকজনকে ঠেড়ে দেয়। এছাড়া ২০১৩ সালেও শাহীন আহম্মেদ আমার একটি গাড়ি আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তখনও মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে আমি গাড়িতে ছাড়িয়ে নিয়েছিলাম।

এ সময় তিনি শাহীন আহম্মেদের আরও কুকীর্তির বিবরণ তুলে ধরেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানিয়েছেন। ডায়েরি নং (১২০)।

Comments

comments