কেরানীগঞ্জে শিশুর মৃত্যু

195

ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন বোরহানিবাগে এক গাঁজা ব্যবসায়ী ও গোয়েন্দা (ডিবি) পরিচয়দানকারী যুবকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনার সময় আঘাত লেগে দেড় মাসের এক শিশু নিহত হয়েছে।

শিশুটির নাম আব্দুর রহিম। তার বাবা আব্দুর রহমানের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ থানার বেতাগায়। তিনি পরিবার নিয়ে বোরহানিবাগে জনৈক ইব্রাহিমের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। পেশায় সবজি বিক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলেকে এভাবে মরতে হবে কখনো ভাবতে পারি নাই। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। ’

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলাউদ্দিন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় রহমানের স্ত্রী মরিয়ম বেগম শিশুকে নিয়ে রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। এ সময় যুবক মোহাম্মদ আলী ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে একই বাড়ির ভাড়াটে গাঁজা বিক্রেতা মোক্তার হোসেনের কাছে টাকা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোক্তার ক্রিকেট খেলার ব্যাট নিয়ে যুবকটিকে ধাওয়া করে। তারা মারধর করতে করতে ওই বাড়ির রান্নাঘরের দিকে চলে আসে। এমন সময় মোক্তার তার হাতে থাকা ব্যাট দিয়ে মোহাম্মদ আলীকে জোরে আঘাত করতে গেলে সেটি মায়ের কোলে থাকা শিশু রহিমের বাঁ কানে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর চিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তারা শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তারা ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী যুবকটিকে আটক করে রাখে। পরে ডিবি পুলিশের এসআই রবি চরণ চৌহান এসে তাকে নিয়ে যান। বুধবার রাতেই শিশু রহিম মারা যায়। পরে শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ডিবির কাছ থেকে ওই যুবককে থানায় আনা হয়।

অন্য খবর  দোহারে বিষপানে গৃহবধূর আত্মহত্যা

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা ডিবির এসআই রবি চরণ চৌহান বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী কোনো পুলিশ না এবং সোর্সও না। ’ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. ফেরদাউস হোসেন বলেন, ‘শিশুটির বাবা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মোক্তার পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী রহিমা বেগম পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ’

Comments

comments