ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলাধীন ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর শাহাবুদ্দিন সিকদারের বিরুদ্ধে ঘুষ ও সংযোগ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে তিনি সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন নিয়মনীতি দেখিয়ে আনায়সে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো গ্রাহক নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করলে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন এবং একপর্যায়ে বড় অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন। এতে নিরুপায় হয়ে গ্রাহক তাকে ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সম্প্রতি আগানগর গুদারাঘাট এলাকায় শহিদুল আলম সুপার মার্কেটে ৫০০ কেভিএ উপকেন্দ্র গ্রাহক নিজস্ব খরচে স্থাপন করে অফিসে লোড বৃদ্ধি করে পুনঃসংযোগের মাধ্যমে উপকেন্দ্র চালু করার জন্য যোগাযোগ করলে প্রথমে তিনি বিভিন্ন সমস্যা দেখান। পরবর্তীতে মোট অঙ্কের ঘুষের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক লাইসেন্সিং বোর্ডের ছাড়পত্র ছাড়াই তিনি সংযোগটি প্রদান করেন।
সরোজমিনে ওই মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র কোনো আবাসিক অথবা বাণিজ্যিক ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে হওয়ার কথা থাকলেও ওই ভবনের ৪র্থ তলায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে উপকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ৪র্থ তালায় সিঁড়ির সাথে একটি কক্ষে হেভিওয়েট যন্ত্রাংশ দিয়ে উপকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে শহিদুল আলম মার্কেটের ম্যানেজার জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই সংযোগ নিয়েছি। পরে ঘুষ দিয়ে সংযোগ নেয়ার কথা বললে তিনি বলেন, এ এলাকায় সব মার্কেটে এভাবেই সংযোগ নেয়া হয়। আমরা কোনো অনিয়ম করিনি। অথচ পবিস নিয়মানুযায়ী গ্রাহক একটি নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করলে প্রাথমিক সমীক্ষা করে তা সদর দফতরে কারিগরি মতামতের জন্য প্রেরণ করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কারিগরি বিভাগের লোক এসে ডিজাইন করে মতামতসহ ডিজিএম (কারিগরি) এর দফতরে প্রেরণ করেন। কারিগরি নীতিমালায় উত্তীর্ণ হলে জেনারেল ম্যানেজারের অনুমোদনসাপেক্ষে রেজিস্টারের মাধ্যমে আবেদনটি সদস্য সেবা বিভাগে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর শাহাবুদ্দিন সিকদারের সাথে চুক্তি করা আবেদনগুলো অনুমোদন এর পর সরাসরি কারিগরি দফতর থেকে শাহাবুদ্দিন সিকদার নিজেই স্বাক্ষর করে নিয়ে আসেন।

অন্য খবর  কেরানীগঞ্জে বিপুল পরিমান বিদেশী মুদ্রাসহ গ্রেপ্তার ১

এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর শাহাবুদ্দিন সিকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভবন মালিকের সাথে একটি ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারের মাধ্যমে সংযোগটি দেয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক লাইসেন্সিং বোর্ডের ছাড়পত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার জানা নেই।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের ডিজিএম মো: জহুরুল আলম বলেন, ভবনের ৪র্থ তালায় উপকেন্দ্র স্থাপনের কোনো নিয়ম নেই। উপকেন্দ্র স্থাপনে লাইসেন্সিং বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে গ্রাউন্ড ফ্লোরে স্থাপন করতে হবে। অভিযোগের বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments