কেরানীগঞ্জে বসতবাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা

356

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ভাওয়ারভিটিতে জমি দখলে নিতে ভূমিদস্যুরা এক কৃষকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ১০টি বসতঘর সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষক আ. আজিজ। হামলায় সময় ভয়ে বাড়ির শিশু, নারী ও পুরুষ মানুষ সবাই অন্যত্র পালিয়ে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চললেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। আ. আজিজের মা ফজিতন নেসা (৮০) জানান, সকাল ১০টার দিকে কদমপুরের ভূমিদস্যু মোকলেসের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক লাঠিসোটা, হকিস্টিক, হাতুড় নিয়ে তাদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে গালমন্দ করতে থাকে। এ সময় তারা বাড়ির লোকজনকে মারধর করলে ভয়ে সবাই পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে ভূমিদস্যুরা বসতবাড়ির ১০টি ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এর আগে তারা লুটপাট চালায়। ভেঙে দেয়া ১০টি ঘরের মধ্যে ৫টি ঘর ভাড়া দেয়। ভূমিদস্যুরা ভাড়াটিয়াদেরও মারধর করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলা ও ভাংচুরের সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এএসআই রিপনসহ একাধিক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও ঘরবাড়ি এবং তাদের রক্ষায় কোনো ভূমিকা নেননি। আবদুল আজিজের বাবার নাম মৃত চিনি মিয়া। তিনি দুই বিয়ে করেছিলেন। চিনি মিয়ার মৃত্যুর পর জায়গা-জমি সৎ ভাইবোন এবং তারা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। মোকলেস নামে এক ব্যক্তি আজিজের সৎ ভাইদের কাছ থেকে কিছু জমি কিনে নেন। আ. আজিজ বলেন, সৎ ভাইয়ের জমি অন্য জায়গায়। সেখানে না গিয়ে ভূমিদস্যু মোকলেস আমাদের ৫ ভাইয়ের মালিকানাধীন বসতবাড়ি দখলের পাঁয়তারা করছে। বাড়ির ২২ শতাংশ জমির মধ্যে ১৬ শতাংশ মোকলেস পাবে বলে দাবি করছে। এজন্য সে নানাভাবে আমাদের হয়রানি করছে। আমার নামে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলাও দিয়েছে। সর্বশেষ জমি দখলে নিতে বসতবাড়ি ভেঙে দিয়েছে। আমরা এখন থাকব কোথায়? এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই রিপন বলেন, আমরা পৌঁছানোর আগেই একদল লোক ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে গেছে।

অন্য খবর  নবাবগঞ্জে শতভাগ বিদ্যুতায়ন

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান,” খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে”।

Comments

comments