কান্দুজে আফগান বিমান হামলায় ৩০ শিশুসহ ৩৬ জন নিহত: জাতিসংঘ

38
কান্দুজে আফগান বিমান হামলা

আফগানিস্তানের কান্দুজ প্রদেশে গত এপ্রিল মাসে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরকারি বাহিনীর হামলায় ৩০ শিশুসহ ৩৬ জন নিহত হয়। এছাড়া আহত হয় আরও ৭১ জন। হতাহতদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে ভারী মেশিনগানের গুলি ও রকেট হামলা চালানো হয়। ২ এপ্রিলের ওই হামলায় শিশুসহ অনেক মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি উঠলে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে জাতিসংঘ। সোমবার সংস্থাটি ওই তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসব তথ্য জানায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

জাতিসংঘ প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্কিন উপদেষ্টাদের ঠিক করা নতুন কৌশলের ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় আফগানিস্তানের বিমান বাহিনীর শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। রকেট সজ্জিত হেলিকপ্টার ও হামলাকারী জঙ্গিবিমান সরবরাহ করার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে তালেবানদের সমঝোতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই প্রতিবেদনের একটি মূল আবিস্কার হলো সরকার একটি ধর্মীয় সমাবেশে রকেট ও ভারী মেশিনগান হামলা চালিয়েছে। এতে বিশাল সংখ্যক শিশু হতাহত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের ওই হামলায় ৩০ শিশুসহ কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত হয়। আর আরও ৭১জন গুরুতর আহত হয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় সতর্কতা ও আনুপাতিকতার শাসনের বিষয়ে আফগান সরকার শ্রদ্ধাশীল কিনা।

অন্য খবর  হাইতিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৮

প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র থেকে দুই শতাধিক মানুষ হতাহতের খবর পেলেও ১০৭ জন ভুক্তভোগীর ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পেরেছেন। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত হওয়া দরকার মনে হলেও জাতিসংঘ মূলত দেখতে চেয়েছে এতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হয়েছে কিনা।

গত মাসে আফগান সরকার বলেছিল, পাকিস্তানের কোয়েটাভিত্তিক তালেবানদের একজন শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। তারা তালেবানদের ‘লাল বাহিনী’ বা বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করেও হামলাটি চালায়। তারা সবাই কুন্দুজ শহরে হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে দাবি করেছে সরকার। শহরটিতে ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুইবার হামলা চালিয়েছে গ্রুপটি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে করা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় দাশত-ই আরচি গ্রামে দাস্তার বন্দি ‍উৎসব চলাকালে হেলিকপ্টারগুলো হঠাৎ নিচে নেমে এসেই রকেট হামলা ও গুলি শুরু করে। অনুষ্ঠানটিতে কোরআনের হাফেজ বালকদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছিল। একটি মাদ্রাসার পাশে একটি বড় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেদিন প্রায় ১২টির মতো রকেট হামলা চালানো হয়।

হামলার সময় লোকজন পালানো শুরু করার পরও হেলিকপ্টার থেকে তাদের ওপর গুলি চালানো অব্যাহত রাখা হয়েছিল। তবে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা এটা নিশ্চিত হতে পারনি যে, শুধু বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছিল কিনা। এমনকি হতাহত ব্যক্তিদের সবাই বেসামরিক নাগরিক কিনা তাও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্য খবর  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা করুন : জাতিসংঘের প্রতি শেখ হাসিনা

ওই হামলার পর বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর খবরে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি তদন্তের নির্দেশ দেন। তবে এখনও তদন্তটির ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।

Comments

comments