কাতারে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আমিরাতের প্রিন্স

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজারিয়াহ আমিরাতের ছেলে কাতারে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। লন্ডনে কাতারি দূতাবাসে হাজির হয়ে শেখ রশিদ বিন হামাদ আল-শার্কি নামে ওই যুবরাজ রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন বলে লেবাননভিত্তিক ডেইলি আল-আখবার এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম প্রেসটিভি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে যখন কাতারের সম্পর্ক চরম তিক্ততা বিরাজ করছে তখন এ ধরনের খবর বেরিয়েছে। শেখ রশিদ বিন হামাদ আল-শার্কি ফুজারিয়াহ কালচার অ্যান্ড মিডিয়া অথরিটির (এফসিএমএ) চেয়ারম্যান। গত ১৯ মে তিনি লন্ডনে অবস্থিত কাতার দূতাবাসে যান এবং রাজনৈতিক আশ্রয় চান। তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করেন এবং অনেক গোপন বিষয় ফাঁস করে দেন। গত ২৩ মে কাতার দূতাবাস থেকে কূটনৈতিক গাড়িতে করে আল-শার্কিকে হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে তিনি কাতার যান এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে দোহায় প্রবেশ করেন।

এদিকে, আমিরাত কর্তৃপক্ষও আল-শার্কির অবস্থান জানতে চেয়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কারণ তিনি আমিরাতের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি এবং তাকে লন্ডনের ৪৫ পার্ক লেনের আবাসস্থলেও পাওয়া যায়নি। তাকে অপহরণ করা হয়েছে কি না সে বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। ৪৫ পার্ক লেনের ওই হোটেলে দুই মাস অবস্থানের জন্য একটি স্যুট ভাড়া করেন আল-শার্কি। কিন্তু সেখানে তিনি মাত্র ৩৪ দিন অবস্থান করেন।

অন্য খবর  ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯

খবরে বলা হয়, যেদিন থেকে আল-শার্কির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না সেই দিনই ওই হোটেলে তার সঙ্গে কাতারের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আবুধাবি সরকারকে আরো জানান, প্রিন্সকে অপহরণ করা হয়নি, তিনি নিজেই কাতার দূতাবাসে যান। উল্লেখ্য, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন অভিযোগ এনে গত বছরের জুন মাসে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর। এ ছাড়া দোহার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হয়। যদিও কাতার বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

Comments

comments