কন্ঠ শিল্পী আবদুল জব্বারের ইন্তেকাল, প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর শোক

93
কন্ঠ শিল্পী আবদুল জব্বারের ইন্তেকাল, প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বাংলাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আবদুল জব্বার ‌ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ৮টায় মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার ছেলে বাবু জব্বার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তাঁর কোনো কিডনিই কাজ করছিল না। কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরিবার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় শিল্পীর অবস্থার অবনতি হয়। এ পরিস্থিতিতে আমরা বোর্ড গঠন করে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিই। অবশেষে আজ চির বিদায় নিলেন।’
শিল্পী আবদুল জব্বার চলতি বছরের ৩১ মে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত শনিবার রাত থেকেই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন আবদুল জব্বার। তাঁর খাওয়া-দাওয়া বন্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা তাঁকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

শোকের ছায়াঃ

জনপ্রিয় শিল্পী আবদুল জব্বারের মৃত্যুতে মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ দেশের বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলাদা বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারা মরহুম আবদুল জব্বারের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বুধবার এক শোকবার্তায় প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বলেন, “আমাদের মুক্তিযুদ্ধে আবদুল জব্বারের গান মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের তরুণ সমাজকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
আব্দুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে তাঁর গান গাওয়া শুরু। তিনি ১৯৬২ সালে প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা জোগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অসংখ্য গানে কণ্ঠ দেন।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮০ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান।#

অন্য খবর  ১৩ বছর পর গাড়িচাপা মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন সালমান

 

Comments

comments