ওরা ১১ জন

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে আলোচিত একটি চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। ডিজিটাল এই যুগে এসে একাত্তরের রণাঙ্গণের বাস্তব ঘটনাকে উপজীব্য করে তৈরি করা হয়েছে মোবাইল গেম। আর তার নামও দেওয়া হয়েছে ‘ওরা ১১ জন’। মুক্তিযুদ্ধে গোটা দেশকে যে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল, সেই পটভূমি নিয়েই তৈরি করা হয়েছে গেমটি। আর গেমারকে এই গেমে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করতে হবে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে শত্রুমুক্ত করতে হবে দেশ। ওড়াতে হবে লাল-সবুজ পতাকা।

গেমের ধাপে ধাপে রয়েছে উত্তেজনা। লড়াকু মনোভাব নিয়ে মোকাবিলা করতে হবে প্রতিপক্ষের ভারী মারণাস্ত্রের সমুচিত জবাব। অস্ত্র নয়, বুদ্ধি আর কৌশল দিয়েই জয় করতে হবে এই ফার্স্ট পারসন শুটার গেমটি।

গত ১ এপ্রিল গেমটির প্রথম পর্বের পরীক্ষামূলক সংস্করণ প্রকাশ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্যাবিলন রিসোর্সেস। ২০১৯ সাল নাগাদ গেমের সবগুলো পর্ব অবমুক্ত করার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী লিয়াকত হোসাইন নয়ন। জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই গেমটি তৈরি করেছেন তিনি।

নির্মাতাদের কথাঃ ইউনিনিটি (২০১৭.১) গেম ইঞ্জিনে ডেভেলপ করা হয়েছে ‘ওরা ১১ জন’। এটি তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে সি শার্প, জাভা স্ক্রিপ্ট ও ভ্যু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। গেমের অলঙ্করণ ও নকশায় ব্যবহার হয়েছে মায়া (২০১৬), মাড বক্স, অ্যাডোবি ফটোশপ ও ইলাস্ট্রেটর।

অন্য খবর  অফলাইনে জিমেইল ব্যবহার করবেন যেভাবে

গেমটিতে তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিগেমটির উন্নয়নে কাজ করেছেন আট জন তরুণের একটি দল। এই দলে জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে রয়েছেন আরিফুল আলম রিবন। তাজবিজুর রহমান সিতুল, মাহবুবুর রহমান তুর্য ও শাওন রহমান কাজ করেছেন ডেভেলপার হিসেবে। গেমের গ্রাফিক্সের কাজ করছেন রাজিব আহমেদ ও মিজান খান জয়। থ্রিডি মডেলের নকশা তৈরি করেছেন ফিরোজ হোসেন। পুরো প্রকল্পটির দেখভাল করছেন নিনাদ হোসেন।

নিনাদ বলেন, ডেমো সংস্করণে কিছু ত্রুটি ছিল। সেগুলো ঠিক করে পহেলা বৈশাখের আগেই আমরা একটি হালনাগাদ সংস্করণ চালু করছি। সেখানে গেমের গ্রাফিক্স ও কন্ট্রোল আরও উন্নত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় গেমের স্ক্রিপ্ট তৈরি করা হয়েছে। কাল্পনিক চরিত্রে খেলা হলেও গেমের স্থান, কাল ও পাত্র বাস্তবতার নিরিখেই তৈরি করা হয়েছে।

প্রথম পর্বঃ গেমারকে খেলতে হবে মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকায়যুদ্ধ করার জন্য পুরো দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। জেলাভিত্তিক ভৌগলিক মানচিত্রে ভাগ করে এই সেক্টরের একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে খেলতে হবে ‘ওরা ১১ জন’ গেমটি। গেমের প্রথম পর্ব তৈরি হয়েছে ২ নম্বর সেক্টরের ওপর। ঢাকা, ফরিদপুরের কিছু অংশ, নোয়াখালী ও কুমিল্লা নিয়ে গঠিত হয়েছিল সেক্টর ২। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ ও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নেতৃত্ব দেন মেজর হায়দার। তবে তাদের কাউকেই দেখা যাবে না গেমে। ১ জুন থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি ফেনীর বিলোনিয়ায় সংঘটিত যুদ্ধে অংশ নিতে পারবেন গেমার। সেখানে তাদের সরাসরি না হলেও সাক্ষাৎ ঘটবে কোনও এক ক্যাপ্টেন হুমায়ুনের সঙ্গে। ‘ওরা ১১ জনে’র এই পর্বে যুদ্ধকালীন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার ছায়া চরিত্রের সঙ্গে খেলতে হবে গেমারকে।

অন্য খবর  কাকে করবেন আপনার ফেসবুকের উত্তরাধিকারী?

গেমটি খেলতে হলেঃ গেমটি খেলার জন্য অন্তত ৪.৪ ভার্সনের অ্যান্ড্রয়েড থাকতে হবে। র‌্যাম থাকতে হবে ২ জিবি। তবে ভিয়ার গিয়ার দিয়ে খেলতে হলে ১ জিবি র‌্যাম থাকলেও চলবে। এ ক্ষেত্রে খেলোয়াড় যেদিকে তাকাবেন, সেদিকে এগিয়ে যাবেন এবং অটো ফায়ার হবে। শিগগিরই গেমটি উইন্ডোজ ও আইওএস প্ল্যাটফর্মেও খেলা যাবে।

গেমটির ডাউনলোড লিংক: http://bit.ly/2GzUa6P ও http://bit.ly/2uO2TwA

Comments

comments