এবার টাইগারদের দক্ষিণ আফ্রিকা ‘মিশন’

70
এবার টাইগারদের দক্ষিণ আফ্রিকা ‘মিশন’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ততার শেষ নেই বাংলাদেশের। কয়েক দিন আগে শেষ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। টাইগারদের সামনে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা মিশন। ‍দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টির কঠিন লড়াইয়ে অংশ নিতে শনিবার রওনা দিয়েছে বাংলাদেশ দল।

কঠিন সফর হলেও মুশফিকুর রহিম আশাবাদী। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের কণ্ঠে ফুটে উঠলো ভালো খেলার আত্মবিশ্বাস, ‘অনেকেই হয়তো ভাবছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আমাদের কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে একমত নই। আমি মনে করি, জয়ের বিশ্বাস না থাকলে কখনোই সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। তিন বছর আগেও আমাদের মধ্যে এই বিশ্বাসটা ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ফরম্যাটেই আমাদের ভালো করার সুযোগ আছে। কয়েক বছর ধরে যেভাবে খেলছি, সেটা ধরে রাখতে পারলে যে কোনও কন্ডিশনেই আমরা ভালো করতে পারবো।’

বাংলাদেশ দলের বোলাররা অভিজ্ঞতায় বেশ পিছিয়ে। মুশফিকের অবশ্য বোলারদের ওপরে সম্পূর্ণ আস্থা আছে, ‘আমাদের বোলিং আক্রমণ কিছুটা অনভিজ্ঞ। তবে অনভিজ্ঞ হলেও বোলাররা দক্ষ। তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করতে পারলে ওদের ব্যাটসম্যানদের অনেক লড়াই করতে হবে। এই সফর আমাদের ক্রিকেটের জন্য মাইলফলক হতে পারে। আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।’

অন্য খবর  বাংলাদেশে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণে সৌদি সহায়তা

প্রোটিয়াদের মাটিতে বাংলাদেশের অতীত পারফরম্যান্স ভালো না হলেও এবারের সফর নিয়ে মুশফিকের কণ্ঠে আশাবাদ, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের রেকর্ড তেমন ভালো নয়। আমাদের খুব কম খেলোয়াড়ই সেখানে খেলেছে। সেখানে প্রায় প্রতিটি দলকেই লড়াই করতে হয়। আমাদেরও হয়তো করতে হবে। বাংলাদেশ দল আগের চেয়ে অনেক পরিণত। পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের পক্ষে ভালো করা সম্ভব।’

২৮ সেপ্টেম্বর পচেফস্ট্রুমে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে একটাই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে বেনোনিতে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনের ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা ইনভাইটেশন একাদশ। টেস্টে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন নাকি শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবেন এমন প্রশ্নে মুশফিকের উত্তর, ‘এই সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসে নেবো। টেস্ট সিরিজের আগে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। ওখানে কন্ডিশন দেখে যদি মনে হয় আমি শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললে দলের জন্য ভালো, তাহলে সেটাই হবে।’

বাংলাদেশের জন্য বড় দুঃসংবাদ সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের প্রত্যাবর্তন স্বস্তি এনে দিয়েছে মুশফিকের মনে, ‘রিয়াদ ভাইকে অলরাউন্ডার বলাই যায়। একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের বদলে একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ই দলে এসেছে। তাই কিছুটা হলেও ব্যালেন্স হয়েছে। রিয়াদ ভাইয়ের জন্যও এটা একটা ভালো সুযোগ।’

অন্য খবর  ইনজুরিতে নেইমার

অবশ্য সাকিবকে না পাওয়ার আক্ষেপ লুকিয়ে রাখতে পারেননি টাইগারদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ টেস্ট ক্রিকেটার, ‘সাকিবের কোনও রিপ্লেসমেন্ট হয় না। ওর মতো নাম্বার ওয়ান ক্রিকেটারকে তো মিস করবোই। তবে সাকিবকে ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের রেকর্ড আছে আমাদের।’

সাফল্য-ব্যর্থতা যা-ই হোক, একদিক দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে টাইগাররা। প্রথমবারের মতো কোনও সফরে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে আলাদা অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলবে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে মুশফিকের অভিমত, ‘এখন কয়েকটি দেশেই তিন অধিনায়ক আছে। আমাদের দলের তিনজনই কোথাও না কোথাও অধিনায়কত্ব করেছে। আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক। আশা করি, কোনও সমস্যা হবে না।’

Comments

comments