এবারের বিশ্বকাপকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন বিশ্বকাপ বলার কারণ

24
এবারের বিশ্বকাপকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন বিশ্বকাপ বলার কারণ
বিজ্ঞাপন

চলছে বিশ্বকাপ। রাশিয়ায় আয়োজিত এবারের আসরকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বাধুনিক টুর্নামেন্ট বলা হচ্ছে। এর আগের কোনও বিশ্বকাপে এত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি।

এবারই প্রথমবারের মতো কোচিং স্টাফ ও ডাটা অ্যানালিস্টদের অল-ইন-ওয়ান টেকনিক্যাল প্যাকেজ সরবরাহ করেছে ফিফা। এই প্যাকেজের সাহায্যে যেকোনও দল এবং আলাদাভাবে খেলোয়াড়দের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়।

যেমন, কোনও একটি দলের একজন খেলোয়াড় কত গতিতে দৌড়ায়, কতক্ষণ দৌড়ায়, মাঠে তার অবস্থান কেমন থাকে, কখন কোন অবস্থানে যায়- এসব খুঁটিনাটি তথ্য জানতে সাহায্য করছে অল-ইন-ওয়ান টেকনিক্যাল প্যাকেজ। ইলেকট্রনিক পারফরমেন্স ও ট্র্যাকিং সিস্টেম খেলোয়াড়দের সম্পর্কে এসব নির্ভুল তথ্য দিয়ে থাকে।

তথ্য বিশ্লেষণের সুবিধার্থে সব দলের বিশ্লেষকদের কাছে বিভিন্ন মেট্রিক্স সরবরাহ করা হয়েছে। একটি দলের বিশ্লেষক হিসেবে নিয়োজিত ব্যক্তি এগুলো বিশ্লেষণ করে সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে সমর্থ হবেন। সমতা রক্ষার্থে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবক’টি দলকে একই ধরনের মেট্রিক্স দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত সুবিধা গ্রহণের সুবিধার্থে এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলকে ট্যাবলেট প্রদান করা হয়েছে। উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি কিছুটা পিছিয়ে থাকা দলগুলোকেও একই প্যাকেজ দিয়েছে ফিফা। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি মনে করে, এর মাধ্যমে বিভিন্ন দলের মধ্যকার প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমে আসবে।

অন্য খবর  ভবিষ্যতের টেক জায়ান্ট কোম্পানি হবে বাংলাদেশেই: জয়

এবারের বিশ্বকাপের সবক’টি স্টেডিয়ামে অপটিক্যাল ট্র্যাকিং ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে সর্বাধুনিক উপায়ে খেলোয়াড়দের ট্র্যাক করা যায়। ফলে একটি ম্যাচে কোন খেলোয়াড় কোন অবস্থানে ছিলেন তা সহজেই বের করা যাবে।

এছাড়া চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ গোল লাইন টেকনোলজি ও ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। এই দু’টি সুবিধার মাধ্যমে গোল ও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পথ বন্ধ করা হয়েছে।

এতো প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, এতে কী ফুটবলের প্রকৃত সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে? প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে ফিফার হেড অব ফুটবল টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন জোহানেস হজমুলার বলেন, যা-ই করা হোক না কেন, সবশেষে ২২ জন খেলোয়াড় ও রেফারিই হলো ফুটবলের মূল চরিত্র। একটা ম্যাচে যেকোনও কিছুই হতে পারে, প্রযুক্তি সেটা নির্ধারণ করে দেবে না। প্রযুক্তি শুধু সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Comments

comments