একদিকে করোনা অন্যদিকে বন্যা’র আঘাতে দিশাহারা দেশের মানুষ

121
নাজমুল হুদা 

শরিফ হাসান,নিউজ৩৯: এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে এবারের কোরবানীর ঈদ। যখন দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে দিশাহারা দেশের মানুষ। তখনই যেন মরার উপর খাড়ার ঘা !  দেশের ৩১টি জেলায় বন্যার হানা । এছাড়া রাজধানীর আশেপাশের নতুন নতুন এলাকাও প্লাবিত হয়ে শঙ্কাজনক অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

সারা দেশের প্রায় ১০লাখ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করে চলেছে।অনেকেই বন্যার পানিতে বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাঁধ কিংবা আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় ঘরের চালা ও গাছের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন।

দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ বেড়েছে। ত্রাণের জন্য সর্বত্র হাহাকার বেড়েই চলছে।শিশুখাদ্যের সংকট চরমে।যেসব এলাকায় সরকারি ত্রাণ পৌঁছেছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।কেউ না খেয়ে থাকবেনা বলা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে যে, অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছায়নি ত্রাণ।

এখন পর্যন্ত বন্যায় প্রায় অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তিস্তাপাড়, আত্রাই, যমুনা,মেঘনা ও পদ্মাপাড়ের মানুষরা চরম কষ্টে আছেন।

এদিকে দুই যুগেরও বেশি সময় পর এ বছরের বন্যা স্থায়ী রূপ ধারণ করায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে ও বাড়ছে।

অন্য খবর  HSC পরীক্ষা: জয়পাড়া কলেজ ও পদ্মা কলেজের দ্বন্দ্বে বিপাকে শিক্ষার্থীরা - কেউ ভাবে না ওদের কথা

এদিকে যমুনা ও পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,বসতঘরসহ ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ মুহূর্তেই সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়ছেন।

একদিকে করোনা অন্যদিকে বন্যা- এই দু’টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ একসঙ্গে আঘাত হানায় মানুষ দিশাহারা।

যদিও বন্যাকবলিত মানুষদের সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে সেগুলো পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে অন্যান্য সময়ে বিভিন্ন এনজিও ও রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনকে বানভাসিদের জন্য কাজ করতে দেখা গেলেও এ বছর তাদের মাঠে দেখা যায়নি।

আসলেই এমন এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে এবার দেশবাসিকে কোরবানীর ঈদ পালন করতে হচ্ছে।যখন বাংলাদেশ জুড়ে করোনার অতিমহামারীতে লাখ লাখ লোক আক্রান্ত ও হাজার হাজার লোক মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করছে।এবং গোট দেশের জনজীবন ও অর্থনীতি বির্যস্ত ও বিপন্ন।এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে দেশের সব এলাকার অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

আসলে ভোগ নয় ত্যাগের নিদর্শন দেখানোর এখনই সময়।এই সময় একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রমাণ করতে হবে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করাটাই সবচেয়ে বড় কোরবাণী।

অন্য খবর  বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব: কী ঘটছে নেপথ্যে?

Comments

comments