ঘন কুয়াশায় ইরি নিয়ে বিপাকে দোহার-নবাবগঞ্জের কৃষকরা

589

শীত শুরু হয়ে মাস খানেক হয়।ইতিমধ্যে দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চলছে ইরি আবাদের প্রস্তুতি।সকাল হলেই চারপাশ ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদন থাকে।ফলে কৃষকরা শিকার হয় নানা প্রতিবন্ধিকতার।

ধানের বীজতলা থেকে বীজ সংগ্রহ করে রোপন করতে কৃষককে  পড়তে হচ্ছে বিপাকে।কুয়াশার কারনে কিছুই দেখা যায় না।এ দিকে ঘন কুয়াশা থাকায় ধানের চারাও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।চারার রং বিভিন্ন বর্ণ ধারণ করছে।এতে করে কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়ছে।আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে লোকাসানের ।

প্রতিবারের মত এবারও দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চাষ করা হবে ইরি ধান ।ইতিমধ্যে সেচ পাম্পের সব রকম প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।বিভিন্ন ক্ষেতে পানি দিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে ক্ষেত।নবাবগঞ্জের ১৪টি ইউনিয়নের  মধ্যে কিছু কিছু এলাকায় আগাম ধান লাগান শুরু হয়ে গেছে।দোহারের ৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়নে চলছে এখন ইরি ধান রোপন।

দোহার-নবাগঞ্জের কোঠাবাড়ি ও আড়িয়াল বিলেও প্রচুর পরিমাণ ইরি ধানের আবাদ করা হচ্ছে বলেও জানা যায়।

সরেজমিনে দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়,উন্নত প্রজাতির ইরি ধান রোপনের চেষ্টা করা হচ্ছে ।কিন্তু ঘন কুয়াশা থাকায় শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা।

অন্য খবর  বর্তমান সরকার নারী শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে: সালমা ইসলাম

ধান চাষে আর আগের মত লাভ নেই বলে জানান এই দুই উপজেলার কৃষকরা।যেখানে অনেকেই ধান চাষ বাদ দিয়ে দিচ্ছে । যেমন খরচ হচ্ছে ধান রোপনে আবার বিক্রিতে তেমন গুনতে হচ্ছে লোকাসান।এর কারনে অনেক কৃষকই ধান চাষের আগ্রহ হারাচ্ছে।সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় দিন দিন ধান চাষ থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে উর্বর আবাদি জমি।ঘন কুয়াশায় কৃষক খুব সকালে তার জমিতে নামতে পারছে না।যার কারনে ধান রোপনে দেরি হয়ে যাচ্ছে ।

কোঠাবাড়ি চকে ধান রোপন করতে আসা মো.বাচ্চু মিয়া জানান,‘‘ওষের লিগ্যা খেতে নামবার পারি না।যার লিগ্যা হালি তুলতে দেরি ওইচ্ছে’’।

সারের মূল্য বেশি থাকায় এবার প্রথম থেকেই লোকাসান গুনতে হচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জের কৃষকদের ।

সেচ ও সারে যে টাকা খরচ হয় তা দিয়ে ধান বিক্রিতেও খরচ উঠানো সম্ভব নয়। রীতিমতই হিমশিম খাচ্ছে কৃষক।আর ঘন কুযাশায় ধানের বীজ ও চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ দিকেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ।সব মিলিয়ে কৃষকরা রয়েছে আশঙ্কাজনক অবস্থায়।নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে তারা এবার ধান রোপন করছে।

Comments

comments