ইরান চুক্তি বাতিলে ট্রাম্পের ঘোষণায় ক্ষোভ-হতাশা

55
ইরান চুক্তি বাতিলে ট্রাম্পের ঘোষণায় ক্ষোভ-হতাশা

মিত্রদের অনুরোধ সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু সমঝোতা চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরে দাঁড়ানো ঘোষণা দেয়ায় ইউরোপসহ সারা বিশ্বে ক্ষোভ আর হতাশা বিরাজ করছে। চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পরও ট্রাম্পকে চুক্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল এবং ফ্রান্স-এর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান তারা। এছাড়া ট্রাম্পের চুক্তি বাতিলের ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। খবর বিবিসির।

বিবৃতিতে প্রভাবশালী তিন দেশের রাষ্ট্রপধান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় আমরা ইরানকে সংযম প্রদর্শনের জন্য উৎসাহ দিচ্ছি। এ চুক্তির আওতায় ইরানের দিক থেকে যেসব বাধ্যবাধকতা আছে, সেগুলো তারা যেন অবশ্যই মেনে চলে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রেডরিকা মঘরিনি বলেছেন, ‘ইরান যতক্ষণ পর্যন্ত এ চুক্তির বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ততক্ষণ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবে।’

ট্রাম্পের ঘোষণার পর এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। এক প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত দুই কোরিয়ার শান্তি প্রক্রিয়াকে সন্দেহের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

অন্য খবর  ডেমোক্র্যাটদের সব দোষ; ডোনাল্ড ট্রাম্প

২০১৫ সালে বারাক ওবামা ক্ষমতায় থাকাকালীন  ইরানের সঙ্গে পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিগুলো পরমাণু চুক্তি করেছিল। সে চুক্তির মূল বিষয় ছিল, ইরান পরমাণু কার্যক্রম বন্ধ রাখবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশন ইরানের যেকোনো পরমাণু স্থাপনায় যেকোনো সময় পরিদর্শন করতে পারবে। এর বিনিময়ে ইরানের উপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়া হয়েছিল।

চুক্তি থেকে আমেরিকার সরে আসার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন সেটিকে ‘মারাত্নক ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ভালোভাবেই কাজ করছিল।

২০১৫ সালে ইরানের সাথে যখন এ চুক্তি করা হয়েছিল তখন সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। চুক্তি থেকে আমেরিকার প্রত্যাহারের ঘোষণায় কেরি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের মিত্রদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে।

অন্যদিকে পরমাণু চুক্তি থেকে আমেরিকার সরে আসার ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজ পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

হাসান রুহানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করলো যে তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতির কোন মর্যাদা রাখে না।’

অন্য খবর  যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে মানসিক রোগীর সংখ্যা

যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতির মর্যাদা রাখের না মন্তব্য করে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষার পর এ চুক্তির পক্ষে থাকা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলবে ইরান। সবকিছু ইরানের জাতীয় স্বার্থের উপর নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন রুহানি।

Comments

comments