ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯

37

ইরানের সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন। হতাহতদের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি কুচকাওয়াজ দেখতে যাওয়া নারী ও শিশুরাও রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সৌদি সমর্থিত আহওয়াজ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই হামলার জন্য দায়ী করেছে তেহরান। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। সৌদি সমর্থিত আহওয়াজ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিজেদের আরব জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচয় দেয়। আল জাজিরা দুইজন হামলাকারীর নিহত হওয়ার সংবাদ দিয়ে জানিয়েছে, পালিয়া যাওয়া হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে ইরান। শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের আহওয়াজ শহরে কুচকাওয়াজ চলা অবস্থায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। কুচকাওয়াজ চলাকালে বন্দুকধারীরা দূর থেকে গুলি চালাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা মঞ্চে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় পাল্টা জবাব দেয় ইরানি বাহিনীর সদস্যরা। গোলাগুলির এই ঘটনা চলে প্রায় ১০ মিনিট ধরে। খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, হামলাকারীদের দুইজন পাল্টা গুলিতে নিহত হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে দুইজনকে। আর বাকিরা পালিয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এ হামলার জন্য নাম উল্লেখ না করে ‘বিদেশি শক্তির’ দিকে আঙুল তুলেছেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসীদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও অর্থ দেওয়া বিদেশি শক্তি আহওয়াজে হামলা চালিয়েছে। শিশু ও সাংবাদিকরা প্রাণ হারিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া আঞ্চলিক শক্তি এবং তাদের প্রভু যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার জন্য দায়ী। নাগরিকদের জীবন রক্ষার জন্য ইরান খুব দ্রুত এবং চরমভাবে পাল্টা জবাব দেবে। তেহরানভিত্তিক সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আল জাজিরাকে বলেন, ‘রেভ্যুলেশনারি গার্ডের কর্মকর্তারা আহওয়াজি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই হামলার জন্য দায়ী মনে করেন। এদেরকে সৌদি আরব প্রশিক্ষণ ও সমর্থন দেয়। এরা বিগত কয়েক বছর ধরেই কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, ইরানের তেলসমৃদ্ধ খুজেস্তান প্রদেশকে ইরান থেকে আলাদা করে ফেলা, ঠিক যেটা সাদ্দাম হোসেন চেয়েছিলেন। তারা নিজেদেরকে আরব জাতীয়তাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করলেও আমরা জানি, মুজাহিদিন-ই-খাল্কের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে। এই মুজাহিদিন-ই-খাল্কের বিরুদ্ধে হাজার হাজার ইরানি নারী ও শিশুকে হত্যার অভিযোগ আছে।

অন্য খবর  দোহার - নবাবগঞ্জে নাজমুল হুদাকে নিয়ে গুজবের পর গুজব

Comments

comments