ইনবক্স থেকে গোপনে নিজের লেখা মুছে দিয়েছেন জাকারবার্গ

ফেসবুকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লেখা ম্যাসেজ গোপনে মুছে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ, ফেসবুকের ইনবক্সে হওয়া কোন একটি আলোচনায় শুধু এক পক্ষের লেখা থাকছে, মার্ক জাকারবার্গ কি লিখেছিলেন তা আর দেখা যাচ্ছে না। কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে ফেসবুকের এমন কাজে করার সমালোচনা করেছেন ব্যবহারকারীরা। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে, বার্তা মুছে দেওয়ার দাবির পক্ষে তারা সত্যতা পেয়েছে। সমালোচনার জবাবে ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সনি পিকচার্সে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটার পর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফেসবুক প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লেখা বার্তা (চ্যাট ম্যাসেজ) মুছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যাদের সঙ্গে ইনবক্সে কথোপকথন হয়েছিল, তাদের না জানিয়ে ইনবক্স থেকে এক তরফা বার্তা মুছে ফেলার বিশেষ ক্ষমতা চর্চা করায় ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা। তবে জাকার্বার্গ ক্ষিপ্ত হতে পারেন, এই আশঙ্কায় তারা তাদের নাম প্রকাশ করেননি।

ফেসবুক একটি গোপন প্রোগ্রাম ব্যবহার করছে কর্মকর্তাদের আগে লেখা বার্তাগুলো মুছে দিতে। কিন্তু যাদের সঙ্গে ওই কথোপকথনগুলো হয়েছিল, তাদেরকে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে এখন ওই কথোপকথনগুলোতে (চ্যাট) শুধু এক পক্ষের লেখাই দেখা যাচ্ছে। এমন কি, কোনও বার্তা যে ওই স্থানে ছিল এবং পরে মুছে ফেলা হয়েছে সেরকম কোনও চিহ্ন পর্যন্ত নেই। টেকক্রাঞ্চকে অন্তত তিনটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, মার্ক জাকারবার্গের লেখা বার্তা তাদের ইনবক্স থেকে উধাও হয়ে গেছে। টেকক্রাঞ্চ ২০১০ সালের একটি বার্তার সূত্র ধরে ইমেইলে আসা নোটিফিকেশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর ফেসবুক ইনবক্স পরীক্ষা করে এ দাবির সত্যতা পেয়েছে। নিজের লেখা তথ্য মুছে দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগালেও সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এমন মাত্রার সুবিধা রাখেননি মার্ক জাকারবার্গ।

অন্য খবর   মজা লস এর অ্যাডমিন গ্রেফতার

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ফেসবুক বলেছে, ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সে হওয়া হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা তাদের জাকারবার্গের বার্তাগুলো মুছে ফেলেছে। সনি পিকচার্স হ্যাকিংয়ের ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বহু স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ পেয়ে গিয়েছিল, যেসব সেখানকার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা লিখেছিলেন। হ্যাকিংয়ের কারণে গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনার কারণে সনি পিকচার্সের সহসভাপতি অ্যামি প্যাসকেলকে চাকরি হারাতে হয়েছিল।

২০১৬ সাল থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীদেরকে বিশেষ ব্যবস্থায় লেখা বার্তা মুছে ফেলার সুযোগ দেওয়া হলেও ২০১৬ সালের আগে লেখা কোনও বার্তা ব্যবহারকারীরা মুছতে পারেন না। জাকারবার্গের সে সমস্যা নেই! ব্যবহারকারীদের ইনবক্স থেকে মুছে ফেলা জাকারবার্গের ওই মন্তব্যগুলো চার বছরেরও বেশি সময় আগের। তিনি ঠিকই সেগুলো মুছে দিয়েছেন।

ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ফেসবুক পরিচালনায় এমন পরিবর্তন আনার দায় আমার। তবে প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে এমন অনেক কিছুতেই পরিবর্তন আনতে হয়। আমরা আমদের অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নেব।’ সিএনবিসিকে সিডনি স্যানবার্গ বলেছেন, হয়তো একদিন ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে থাকা তাদের সব তথ্য একান্তভাবে গোপন রাখতে পারবেন, যাতে কেউ বাণিজ্যিক বা গবেষণার কাজে সেসব তথ্য ব্যবহার করতে না পারে। কিন্তু গোপনীয়তার ওই সুযোগ পেতে হলে ব্যবহারকারীকে টাকা খরচ করতে হবে।

অন্য খবর  ইন্টারনেট ছাড়াই ফেসবুক

Comments

comments