ইতালির হলো শুরু, অস্ট্রিয়ার হলো সারা

২৩ জানুয়ারি, ১৯৩৯ সাল। সকাল।

গুস্তাভ হার্টম্যানকে ভিয়েনার একটা অ্যাপার্টমেন্টের দরজা ভেঙে ঢুকে পড়তে হলো, এক পুরোনো বন্ধুর খোঁজে। হার্টম্যানের সেই বন্ধুর নগ্ন দেহটা তখন নিথর পড়ে আছে, তার প্রেয়সীর পাশে। মাতিয়া সিন্দেলার- অস্ট্রিয়ার ইতিহাসের সেরা ফুটবলার, ‘দ্য পেপারম্যান’, ‘ভুন্ডারটিম’ বা বিস্ময়দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র মারা গেলেন মাত্র ৩৬ বছর বয়সে। সিন্দেলার ও তার বান্ধবী ক্যামিলা ক্যাস্টাগলোনার মৃত্যুর অতিসম্ভাব্য কারণ- চিমনি রুদ্ধ হয়ে কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়া। অন্তত পুলিশী রিপোর্ট বলে তেমনই।

তবে মানবমন তো সন্দেহপ্রবণ। আর সন্দেহের পরের ধাপই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। সিন্দেলারের মৃত্যুটা কী ছিল আসলে- হত্যা? আত্মহত্যা? বিচারবহির্ভূত হত্যা? নাৎসি পুলিশরা তাকে নিয়ে একটা ফাইল বানিয়েছিল, নজরবন্দী ছিল তার কেনা ক্যাফেটাও। জার্মানীর অস্ট্রিয়া দখলের পর সমন্বিত দলে খেলতে আপত্তি জানিয়েছিলেন ভিয়েনা ও অস্ট্রিয়ার গর্ব, এমনকি ‘আনশলস’ বা ‘অধীকরণ’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ম্যাচে গোল করে নাৎসিদের সামনে করেছিলেন বুনো উল্লাস। তবে এসব শুধুই সম্ভাব্যতা, সিন্দেলারের মৃত্যু থেকে গেছে রহস্য হয়েই। তার এই ট্র্যাজেডিই যেন অস্ট্রিয়ার ফুটবলের স্বর্ণালী অধ্যায়ের সবচেয়ে অনাকাঙ্খিত উপসংহার। যে অধ্যায়ের শুরুতে ছিল স্কটিশদের আগমন, শেষে ছিল নাৎসি আক্রমণ, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, মৃত্যু। এ দুইয়ের মাঝে এসেছিল ‘ভুন্ডারটিম’- বিস্ময়দল। যে বিস্ময়দলের শেষটা হয়েছিল ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে, ইতালিতে।

ভিত্তোরিও পোজ্জো ছিলেন ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়মিত এক মুসাফির। ঘুরতেন, দেখতেন, আর নিজে নিজে ছক কষতেন। ছক কষতে কষতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘ওল্ড মাস্টার’, ফুটবলের প্রথম ট্যাকটিক্যাল কোচদের একজন। ছক কষতে কষতেই তিনি ঘুরে আসতেন ভবিষ্যত ম্যাচটা থেকে। ফর্মুলা ওয়ানের ড্রাইভারদের মতো, ট্র্যাকে রেস শুরুর আগেই মাথায় একবার ঘুরতে হয় পুরোটা।

১৯৩৪ সালে ইতালি ছিল স্বাগতিক। প্রথম বিশ্বকাপে ইতালি খেলতে যায়নি উরুগুয়েতে, সেই প্রতিশোধ নিতেই শিরোপার মায়া ছেড়ে দিয়ে উরুগুয়ে আসেনি ইতালিতে। গ্রেট বৃটেন তখনও বিশ্বকাপের জন্য সময় করে উঠতে পারেনি, আর আর্জেন্টিনা খোঁড়া হয়ে গিয়েছিল তিনজন মূল ফুটবলারকে ইতালির কাছে হারিয়েই।

আগের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়েই ফাইনাল খেলেছিলেন লুইসিতো মন্টি। খেলেছিলেন রাইমুনদো অরসি ও এনরিক গাইতাও। কিন্তু তারা ছিলেন ‘ওরিউনদি’, মানে ইতালীয় বংশোদ্ভূত। কমপক্ষে তিন পুরুষ ইতালিতে বাস করেছে, এমন ফুটবলার ইতালির ঘরোয়া লিগে খেললেই হয়ে উঠতে পারতেন ওরিউন্দি। পোজ্জো তাদেরকে নিয়ে বলেছিলেন, “যারা ইতালির জন্য মরতে রাজি থাকতে পারে, তারা ইতালির হয়ে ফুটবলও খেলতে পারে”। অবশ্য এরপর আবিসিনিয়া যুদ্ধের সময় ইতালির অবস্থা যখন সংকটাপন্ন, ওরিউনদিদের কয়েকজন পালিয়ে যেতে গিয়ে ধরাও পড়েছিলেন সুইজারল্যান্ড সীমান্তে।

ইতালি তখন বেনিতো মুসোলিনির অধীনে, বিশ্বকাপ আয়োজনে যতটা না ফুটবল, এর চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল তার ক্ষমতার প্রদর্শনীর সুযোগটা। এমনকি ইতালি না জিতলে একটা দ্বিতীয় শিরোপা বানিয়ে রেখেছিলেন মুসোলিনি, যা ছিল নির্ধারিত শিরোপার কয়েকগুণ বড়। এই বিশ্বকাপই একমাত্র, যেবার আয়োজকদেরও খেলতে হয়েছিল বাছাইপর্ব। ইতালি অবশ্য সেটা পেরিয়েছিল সহজেই।

অন্য খবর  কাটাখালী-টিকরপুর সড়কের কাজে ধীরগতি

পোজ্জোর অধীনে ইতালী হয়ে উঠেছিল যুদ্ধাংদেহী, সামনে যে-ই আসবে, হয়ে যাবে ধ্বংস। তার অন্যতম অস্ত্র ছিলেন লুইসিতো মন্টি। আর্জেন্টাইন। ওরিউনদি।

মন্টি ট্যাকেল করতেন নৃশংসভাবে, পাস দিতেন নিখুঁতভাবে। খেলাটা পড়তে পারতেন সহজেই। ম্যান-মার্কিংয়ের পুজারীদের শুরুর দিকের একজন ছিলেন মন্টি, যার ঈশ্বর ছিলেন পোজ্জো। ১৬ দলের বিশ্বকাপ ছিল নক-আউট পদ্ধতির, যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দেওয়ার পর কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালি পেয়েছিল স্পেনকে। নিয়ম ছিল, এক ম্যাচ ড্র হলে খেলতে হবে পুনরায়। প্রথম ম্যাচে স্প্যানিশ গোলকিপার ক্ষতবিক্ষত হলেন ইতালিয়ান আক্রমণে, রিপ্লেতে খেলতেই পারলেন না। গুসিপে মেয়াজ্জা, সে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের একমাত্র গোলে জিতলো ইতালি। এরপর সেমিফাইনাল, ইতালির প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়ার ভুন্ডারটিম। বিস্ময়দল।

‘ভুন্ডারটিম’ ছিল আলতো পাসের অগ্রদূত- ১৯৫০-এর দশকের হাঙ্গেরি, ১৯৭০-এর দশকের নেদারল্যান্ডস বা কদিন আগের স্পেনে যারা মহিমান্বিত হয়েছিলেন। উনবিংশ শতাব্দির শেষদিকে বৃটিশরা যখন ফুটবল ছড়িয়ে দিচ্ছে, অস্ট্রিয়ার জনগণ খেলাটা গ্রহণ করেছিল সাদরেই। একসময় খেলতে এলো স্কটিশরা, উড়িয়ে দিল স্থানীয় দলদের, তবে রেখে গেল একটা স্মৃতিচিহ্ন। যা দিয়ে ইউরোপের ফুটবল শাসন করলো অস্ট্রিয়া- ‘পাস অ্যান্ড মুভ’ হয়ে উঠেছিল তাদের ফুটবলের ঘরবসতি।

‘পাস অ্যান্ড মুভ’-এর মতো করে এরপর চট করে ১৯১৯ সাল, অস্ট্রিয়ার কোচের দায়িত্ব নিলেন হুগো মেইস। ১৯২৬ সাল, ২৩ বছর বয়সে অভিষেক মাতিয়া সিন্দেলারের। সিন্দেলার ছিলেন সেন্টার ফরোয়ার্ড, পেশীর ওপর যেখানে ছড়ি ঘোরায় মস্তিস্ক, অসির চেয়ে যখন শক্তিশালি হয়ে ওঠে মসি। এক লেখক বলেছিলেন, সিন্দেলারের মস্তিস্কটাই আসলে তার পায়ের ভেতর। অস্ট্রিয়ার মধ্যবিত্ত শ্রেণি ততদিনে ফুটবলকে হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছেন, সিন্দেলারের মতো ফিনফিনে শরীরের এক শিল্পীর শৈল্পিকতা যেন মিলে গেল তাদের কর্মকান্ডের সঙ্গেই।

সিন্দেলার হয়ে উঠলেন ‘পেপারম্যান’। তাকে কাগুজে মানব বলাটা অত্যুক্তি ছিল না, শরীরে ভাসতো শুধু কাপড়ই, যে যুগে সেন্টার ফরোয়ার্ডদের ‘হাল্ক’ হতে হতো, সে যুগে তিনি ছিলেন নেহায়েতই জনি ইংলিশ। তবে ভুন্ডারটিমের জন্য যথেষ্ট ছিল সেটাই।

সিন্দেলার অবশ্য একলা একা ছিলেন না। মেইসের ২-৩-৫ ফরমেশনে সেন্টার-হাফে প্রভাববিস্তারী ছিলেন জোসেফ স্মিসতিক, জোসেফ বিকান হয়ে উঠেছিলেন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গোলদাতাদের একজন। ইনসাইড লেফটে জোহান হোরভাথ ছিলেন দরবেশের মতো, আর রুডি হিদেনকে ধরা হয় দ্বিতীয় যুদ্ধের পূর্বকালীন সময়ের সেরা একজন গোলকিপার হিসেবে।

১৬ মে ১৯৩১ থেকে ২৩ অক্টোবর ১৯৩২- অস্ট্রিয়াকে হারাতে পারেনি কেউ। স্কটল্যান্ড, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড- বিধ্বস্ত হয়েছে সবাই। হাঙ্গেরি প্রথম দেখায় ড্র করেছিল ২-২ গোলে, পরের দেখায় হজম করেছিল ৮ গোল! ইংল্যান্ডে গিয়ে ৪-৩ গোলে হেরে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা খুইয়েছিল অস্ট্রিয়ার বিস্ময়দল, তবে বিস্ময়ের সীমাটা কাটেনি তখনও। ১৬ ম্যাচে ১৬ গোল করেছিলেন সিন্দেলার, তখনকার ‘ফলস নাইন’-এর সংস্করণ। ১৯৩৪ সালে ঠিক ফর্মের চূড়ায় ছিল না অস্ট্রিয়া, তবে বিশ্বকাপে ছিল পরিষ্কার ফেবারিটদের একটি।

হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়াকে বিশ্বকাপের আগেই উড়িয়েছে তারা, ইতালিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে জিতেছে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কাপ। তুরিনে ফ্রান্সকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল তাদের, কোয়ার্টার ফাইনালে মিললো পুরোনো শত্রু হাঙ্গেরির দেখা। বলোগনার লড়াইটা জমলো বেশ, ২-১ গোলে যেখানে জয়টা অস্ট্রিয়ারই। এরপর সেমিফাইনাল। প্রতিপক্ষ ইতালি।

অন্য খবর  ক্রিকইনফোর বর্ষসেরা অধিনায়ক কোহলি

পোজ্জোর ম্যান-মার্কিংয়ের সঙ্গে আক্রমণ চূর্ণকারী স্টিমরোলারের মুখোমুখি মেইসের সুরেলা এক গায়কের ছন্দময়ী দল। আগ্রাসী ইতালির মুখোমুখি শৈল্পিক অস্ট্রিয়া, আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে শিল্পীর তুলি, হেভি-মেটালের সামনে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসর। দ্য ওল্ড মাস্টার ভিত্তোরিও পোজ্জোর মুখোমুখি হুগো মেইস- ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে রেফারি, সেখান থেকে সহকারি কোচ, সেখানে থেকে বনে যাওয়া ‘ভুন্ডারটিম’-এর মূল কারিগর। অধিনায়ক আর পেপারম্যান সিন্দেলারের মুখোমুখি দানব লুইসিতো মন্টি।

ইতালির হলো শুরু, অস্ট্রিয়ার হলো সারা

বৃষ্টিতে কাব্য আসে। তবে আসে কাদাও। সান-সিরোর কাদায় আটকে গেল অস্ট্রিয়ার কাব্য। গতি কমে এল খেলার, নির্ভুল পাসগুলো হতে লাগলো এলোমেলো। চোটগ্রস্ত রুডি হাইডেনের জায়গায় গোলকিপার ছিলেন পিটার প্ল্যাটজার, নীচু হয়ে আসা একটা ক্রস হাতে জমালেন ঠিকই, তবে চ্যালেঞ্জ করে বসলেন মেয়াজ্জা, তীব্র চ্যালেঞ্জ। রেফারির চোখ এড়িয়ে গেল সেটা, অথবা রেফারি চোখ সরিয়ে নিলেন। এনরিক গাইতার টোকা হয়ে গেল গোল। ওদিকে ম্যাচভর মন্টি আটকে রাখলেন সিন্দেলারকে, ভুন্ডারটিমকে আটকে রাখল ইতালির ট্যাকটিকস। পোজ্জোর কাছে হারলেন মেইস। জার্মানির কাছে তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচেও হেরেছিল অস্ট্রিয়া, ভুন্ডারটিমের ভাঙনের সুরটা হয়েছিল আরও উচ্চকিত।

ফাইনালে ইতালির প্রতিপক্ষ চেকোস্লোভাকিয়া, হুগো মেইসের পাসিং দর্শনে বিশ্বাসী ছিল তারাও। ১৯তম মিনিটে পাওয়া লিডটা তারা খোয়াল রাইমুনদো “ওরিউন্দি” অরসির গোলে। অ্যানজেলো শিয়াভিওর অতিরিক্ত সময়ের গোলে শিরোপা জিতল ইতালি, তবে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তখনও তাদের।

পুরো টুর্নামেন্টেই রেফারির সহায়তা পাওয়ার ‘দুর্নাম’ ছিল তাদের। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ইতালির গোলটা যে ইভান একলিন্দ নামের সুইডিশ রেফারি নাকচ করেননি, ফাইনালেও ছিলেন তিনিই। কোয়ার্টার ফাইনালের ‘রিপ্লে’তে একটা ফাউল নিয়ে অভিযোগ ছিল স্পেনের।

তবে কোনো অভিযোগ আটকাতে পারেনি ইতালিকে- প্রথমবার শিরোপা জয় থেকে।

ইতালির হলো শুরু, অস্ট্রিয়ার হলো সারা

ইতিহাসের গল্পগুলো নাকি দুইভাবে লেখা যায়। জয়ীদের একটা, পরাজিতদের আরেকটা। দৃষ্টিকোণ ভিন্ন হয়, বদলে যায় অনেককিছুই। কোনোটায় আক্ষেপের আনাগোণা, কোনোটায় সাফল্যের ছড়াছড়ি। অস্ট্রিয়ার বিস্ময়দল আর ইতালির যান্ত্রিক দলও যেন ইতিহাসের সেই দুই চরিত্র, অথবা প্রতিপক্ষ।

টোটাল ফুটবলের ডাচরা, ১৯৫৪ সালের হাঙ্গেরিয়ানরা, বা ১৯৫০ ও ১৯৮২ সালের ব্রাজিল দলের সঙ্গে যুক্ত তাই অস্ট্রিয়ার ভুন্ডারটিম- যারা কখনও জেতেনি বিশ্বকাপ। ১৯৩৮ সালে অবশ্য তাদের সুযোগই ছিল না, ততোদিনে জার্মানী দখলে নিয়েছে অস্ট্রিয়া, আগের বিশ্বকাপ দলের বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান অবশ্য সমন্বিত দলেও খেলেছিলেন।

সে দলে ছিলেন না সিন্দেলার। ১৯৩৮ সালে আরেকটা সুযোগ পাননি তিনি। ১৯৩৪ সালে মুকুটটা মাথায় চড়াতে পারেননি, সেই আক্ষেপের পাঁচ বছর পর তো মারাই গেলেন, তার আগে রেখে গেলেন রহস্য, আর আক্ষেপের বেশ কিছু গল্প।

ইতিহাসের গল্পগুলো নাকি দুইভাবে লেখা যায়। জয়ীদের একটা, পরাজিতদের আরেকটা। দৃষ্টিকোণ ভিন্ন হয়, বদলে যায় অনেককিছুই। কোনোটায় আক্ষেপের আনাগোণা, কোনোটায় সাফল্যের ছড়াছড়ি। অস্ট্রিয়ার বিস্ময়দল আর ইতালির যান্ত্রিক দলও যেন ইতিহাসের সেই দুই চরিত্র, অথবা প্রতিপক্ষ।  টোটাল ফুটবলের ডাচরা, ১৯৫৪ সালের হাঙ্গেরিয়ানরা, বা ১৯৫০ ও ১৯৮২ সালের ব্রাজিল দলের সঙ্গে যুক্ত তাই অস্ট্রিয়ার ভুন্ডারটিম- যারা কখনও জেতেনি বিশ্বকাপ। ১৯৩৮ সালে অবশ্য তাদের সুযোগই ছিল না, ততোদিনে জার্মানী দখলে নিয়েছে অস্ট্রিয়া, আগের বিশ্বকাপ দলের বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান অবশ্য সমন্বিত দলেও খেলেছিলেন।  সে দলে ছিলেন না সিন্দেলার। ১৯৩৮ সালে আরেকটা সুযোগ পাননি তিনি। ১৯৩৪ সালে মুকুটটা মাথায় চড়াতে পারেননি, সেই আক্ষেপের পাঁচ বছর পর তো মারাই গেলেন, তার আগে রেখে গেলেন রহস্য, আর আক্ষেপের বেশ কিছু গল্প।  সে গল্পগুলোই ইতালি বললে নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন হবে। যেখানে থাকবে কয়েকটি বিশ্বকাপ জয়ের শুরুর কথা।

সে গল্পগুলোই ইতালি বললে নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন হবে। যেখানে থাকবে কয়েকটি বিশ্বকাপ জয়ের শুরুর কথা।

Comments

comments