আলমগীর হোসেন: ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ না’কি দ্বিধাবিভক্ত

466
আলমগীর হোসেন, আওয়ামী লীগ
আলমগীর হোসেন

বিগত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার একচেটিয়ে ভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে। সেই নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। তখন সালমা ইসলামের পক্ষে আওয়ামীলীগের একটি অংশ সক্রিয়ভাবে খেটেছিল। ফলে পরাজিত হন দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান। আর এতে তিনি তার দলীয় পদ ও হারান।

পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাচনে দোহার-নবাবগঞ্জ দুই আসন থেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী। এখানেও দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামীলীগের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হন প্রার্থীরা। ফলে সারা দেশে আওয়ামী লীগের কোন না কোন পর্যায়ের নেতা রাষ্ট্রযন্ত্রের সাথে থাকলেও দোহার বাদ পরে যায় সে তালিকা থেকে। আর এভাবেই রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে দূরে সরে যায় দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ।

২০১৫ সালে হটাত করেই দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সহ সভাপতি কামরুল হুদা মারা গেলে শুন্য হয় দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ। ফলে উপ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয় দোহার উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গন। উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কোন্দল, বিএনপির অনৈক্য, জাতীয় পার্টির অদ্ভূত রাজনীতি অনেক কিছুই নতুন করে উঠে এসেছে। নির্বাচনে নাটকীয়তা দেখা দেয় প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ বিষয়ক উপদ্বেষ্টা  সালমান এফ রহমান আসায়।

অন্য খবর  মালিকান্দায় গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মুহূর্তে এসে সালমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হলেও এই ঐক্য কত দিন থাকবে তা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। বালির বাঁধের মতো যেকোন সময়ই সময়ের পরিবর্তনে এই ঐক্য ভেঙ্গে পড়েছে। এরই মাঝে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর হোসেনকে পড়তে হয়েছে নিজের দলের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মুখে। যারা ইঞ্জিনিয়ার মেহবুবের সাথে আছেন তাদের অধিকাংশই আওয়ামীলীগের কোন না কোন স্তরের নেতা-কর্মী। সবচেয়ে অবাক বিষয়, অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ কিছু নেতা যারা দিনে আওয়ামীলীগ তারা রাতে গোপনে বাড়ী বাড়ী গিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মেহবুবকে নিয়ে। এসব নেতা-কর্মীদের দাবী গত দেড় বছর ইঞ্জনিয়ার মেহবুব তাদের সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তবে নিউজ৩৯ এর কাছে তথ্য দিয়েছেন অনেকে যে, সালমান এফ রহমান আসায় অনেকেই নতুন মেরুকরণ দেখছেন দোহারের রাজনীতিতে। কেননা, ২০০১ সালে সালমান ছিলেন শুধুই একজন ব্যবসায়ী।  কিন্তু এখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা । ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচন সহ অনেক কিছুই এখন হয়ে যাবে সালমান কেন্দ্রীক। তাই আলমগীর হোসেনকে ফেল করানো গেলে হয়তো সালমান দোহারের রাজনীতীতে তার আগ্রহ হারাবেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে আলমগীর হোসেন কি পাচ্ছেন? ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ না ষড়যন্ত্র।

অন্য খবর  লোডশেডিংয়ের বিপাকে দোহার-নবাবগঞ্জের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

তবে যে অংশটি আলমগীর হোসেনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আছে, সেখানে আছেন অনেক সাধারণ মানুষও। অনেকেরই মত দোহারের প্রধান ২টি সমস্যা নদী ভাঙন ও মাদক; আর এই সমস্যাদ্বয়ের সমাধান সম্ভব একজন সরকার দলীয় নতুন নেতার হাতে। আলমগীর হোসেনের সমর্থকদের মতে, যতই ষড়যন্ত্র বা বাধা থাকুক “দোহারের উন্নয়নের” স্বার্থে মানুষ  ভোট দিবে আলমগীর হোসেনকে। রাত পোহালেই নির্বাচন। সেখানেই চলে আসবে উত্তর – তবে কি দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগ কি পারবে এক হয়ে দোহার থেকে একজন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে ?

Comments

comments