আপনার স্ত্রী আপনার কাছে যা প্রত্যাশা করে

56

আপনার স্ত্রী আপনার কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে যে বস্তু বা বিষয়ের প্রত্যাশা করেন তা হল, তার প্রতি আপনার নিরবিচ্ছিন্ন ভালোবাসা ও তার কথার প্রতি আপনার অখণ্ড মনোযোগ। তিনি সর্বদাই চান আপনি তার কথাকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করুন,অখণ্ড মনোযোগের সাথে তার মতামত শুনুন তথা তার সাথে আপনার সম্পর্ককে সর্বদা গুরুত্ব প্রদান করুন। তিনি সর্বদাই নিশ্চিত হতে চান, তার প্রতি আপনার ভালবাসা ও গুরুত্ব প্রদান অব্যাহত আছে কিনা।

আপনার প্রতি আপনার স্ত্রী ভালবাসা অব্যাহত আছে কিনা, আপনার তা কখনোই পরখ করার প্রয়োজন হয়না। কেননা নিজের পিতা-মাতাকে ছেড়ে আপনার সাথে তার অব্যাহত বসবাসই আপনার প্রতি তার আকর্ষণ ও ভালবাসা প্রমাণ করে। এই ভালবাসার প্রেক্ষিতে তার মনে সবসময় প্রশ্ন আসে, সত্যিই কি আপনার প্রতি তার ভালবাসার মতই তার প্রতি আপনার ভালবাসা অব্যাহত আছে কিনা, তার কথায় কি আপনি গুরুত্ব প্রদান করেন কিনা, তার কথা সর্বদা চিন্তা করেন কিনা। এর ফলেই তিনি আপনাকে সবসময় পরখ করতে চান, আপনার কাছ থেকে নিশ্চিত হতে চান, তার প্রতি আপনার গুরুত্ব ও ভালবাসা সম্পর্কে।

অপর একটি বিষয় সম্পর্কেও স্বামীদেরকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হয়। নারীরা সর্বদাই তাদের সৌন্দর্য ও দৃষ্টিগ্রাহ্যতা সম্পর্কে সচেতন এবং তারা অপর নারীর সাথে সবসময়ই তাদের সৌন্দর্যের তুলনা করে। পুরুষদের এ ধরণের কোন সচেতনতা বা অপরের সাথে নিজের সৌন্দর্য তুলনা করার প্রবণতা নেই। কিন্তু নারীরা সকল সময়ই অবচেতন ভাবেও এই তুলনা করতে থাকে। সুতরাং স্ত্রীর সৌন্দর্যের প্রশংসা করার করার মাধ্যমে স্বামী তার স্ত্রীকে এ বিষয়ে নিশ্চিত রাখতে পারে।

স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালবাসা ও গুরুত্ব প্রদান অব্যাহত থাকার ব্যাপারে আপনি তাকে নিম্নোক্ত উপায়ে নিশ্চিত করতে পারেন।

প্রথমত, আপনার ব্যবহৃত শব্দ সম্পর্কে সতর্ক হোন। শব্দের ক্ষমতা সম্পর্কে কখনোই অবহেলা করবেন না। শব্দের মাধ্যমে একজনের সাথে আপনার সম্পর্ক যেমন মধুর হতে পারে, তেমনিভাবে শব্দের কারনেই আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক ভেঙে গিয়ে তিক্ততার জন্ম নিতে পারে।

অন্য খবর  বিরিয়ানি-র নাম বিরিয়ানি হল কী করে জানেন?

সাধারণভাবেই আপনার স্ত্রীকে বলুন, আমি তোমাকে ভালবাসি। যদিও এই বাগধারা শুনতে বেখাপ্পা ও ছেলেমানুষী মনে হয়, তথাপি স্ত্রীর ক্ষেত্রে এটি কখনোই পুরাতন ও বেখাপ্পা নয়। তারা তাদের স্বামীর কাছ থেকে এই বাগধারাটি শুনতে সর্বদাই আগ্রহী।

এ সম্পর্কে একটি দুর্বল হাদীস থেকে জানা যায়, রাসূল (সা.) ও আয়েশা (রা.) একদিন বসে খোশগল্প করার সময় আয়েশা (রা.) রাসূল (সা.) প্রশ্ন করেন,

“আপনি আমাকে কিরূপ ভালবাসেন?” প্রত্যুত্তরে রাসূল (সা.) রূপকশোভিত ভাষায় বলেন,

“তোমার প্রতি আমার ভালবাসা এমন শক্তিশালী বন্ধনের মত, যা কখনোই খুলবে না।”

পরবর্তীতে দুজনের মধ্যে এক তর্কের সময় আয়েশা (রা.) প্রশ্ন করলেন, “আপনার বন্ধনটি এখন কেমন?” রাসূল (সা.) হেসে উত্তর দিলেন, “আগের মতই শক্তিশালী।”

সুতরাং, সাধারণ বাক্য আমি তোমাকে ভালবাসি শুধু একটি সাধারণ বাক্যই নয়, বরং এর থেকেও ক্ষমতাধর বস্তু। আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার সম্পর্কে বন্ধনের এটিই প্রথম শর্ত।

আপনার স্ত্রীর কাজকে শুধু সমালোচনা বা নীরবে গ্রহণ করবেন না। তিনি যাই করুন, মাঝে মাঝে তার কাজের প্রশংসা করুন। আপনার প্রশংসা আপনাদের মধ্যকার সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করবে।

তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করুন, যখন তিনি আপনার মনোযোগের জন্য বিশেষভাবে সাজসজ্জা করেন। বিবাহ বার্ষিকীর দিনটি সম্পর্কে ভুলে যাওয়া থেকে সর্বদা সতর্কতার সাথে বিরত থাকবেন। দিনটির স্মরণ সম্পর্কে ভুলে যাওয়া আপনাদের সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক। স্ত্রীরা এই দিনটিকে গুরুত্ব প্রদান করেন কেননা, এর মাধ্যমে তার অনুভব করেন তার প্রতি আপনার অব্যাহত আকর্ষণ, অব্যাহত ভালবাসা, অব্যাহত গুরুত্ব প্রদান। অনেক আলেমের মতেই, এ ধরণের বার্ষিকী পালন করা হারাম। তবে, এই দিনটিতে স্ত্রীকে নিয়ে ভ্রমণে বের হওয়া, তার সাথে আপনার সময় কাটানো বা তার জন্য বিশেষ ভোজের আয়োজন করার বিষয়ে যদি শরীয়তের বিশ্লেষণ করা হয়, তবে এ সকল কাজ আপনার জন্য মুস্তাহাব। স্ত্রীর সাথে সময় কাটানো বা তাকে নিয়ে ভ্রমণ বা ভোজে যাওয়ার ব্যাপারে শরীয়ত আপনাকে উৎসাহিত করেছে। এর মাধ্যমেই মূলত তার প্রতি আপনার আকর্ষণ প্রকাশিত হয়।

অন্য খবর  ফেসবুকের মাধ্যমে চাকরি খুঁজে পেতে ৪টি টিপস

দ্বিতীয়ত, আপনার স্ত্রীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সময় দিন। স্ত্রী আপনার কাছ থেকে পর্যাপ্ত সময়ের প্রত্যাশা করে। এখানে সময়ের অর্থ সম্পর্কে আপনার অবগত হয়ে নেওয়া প্রয়োজন। সময় বলতে আমরা সাধারণত ঘড়ির সময়কে বুঝলে এক্ষেত্রে তার প্রয়োগ ভিন্নতর। স্ত্রী যখন আপনার কাছে অভিযোগ করে, তুমি আমাকে ঠিকমত সময় দাওনা, তখন ভুলেও ভাববেন না তিনি আপনাকে ঘড়ি ধরা সময়ের কথা নির্দেশ করছেন। স্ত্রীর কাছে সময়ের অর্থ, তার প্রতি আপনার অখন্ড পূর্ণ মনোযোগ। যখনই তিনি আপনার কাছে তাকে সময় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে, তখন আপনাকে বুঝতে হবে তার সাথে আপনার সময়কে সকল প্রকার জটিলতা থেকে মুক্ত করে পূর্ণভাবে তার কথা ও তার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।

অপর একটি বিষয়, স্ত্রীরা যখন তার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের স্বামীদের কাছে পরামর্শ বা উপদেশের জন্য আসে, তখন স্বামীরা চিন্তা করতে পারে সে আসলেই সমস্যা সমাধানের জন্য এসেছে। তখন সে স্ত্রীর কাজের ভুল ধরে তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া শুরু করে। কিন্তু স্ত্রীরা তার স্বামীর কাছ থেকে কখনোই অভিভাবকসুলভ উপদেশ প্রত্যাশা করেনা। স্ত্রীরা বরং তাদের কথা শোনার জন্য স্বামীকে একজন আগ্রহী ও সহানূভূতিশীল শ্রোতা হিসেবে দেখতে চায়। সে চায়, তার স্বামী তার সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনুক, একজন যর্থার্থ সঙ্গী হিসেবে তার প্রতি সহানূভূতিশীলতা প্রদর্শন করুন। তার সমস্যার সমাধান সবসময় জরুরীভাবে তার স্বামীকেই করতে হবে, এমন কোন প্রত্যাশা স্ত্রীরা করেনা।

এটিই মূলত আপনার স্ত্রীকে দেওয়া আপনার পর্যাপ্ত সময়। মূলত এর মাধ্যমেই আপনার স্ত্রী আপনার থেকে নিশ্চিত হয়, তার প্রতি আপনার খেয়াল অব্যাহত আছে, তার প্রতি আপনার গুরুত্ব অব্যাহত আছে।

আপনি যদি তার প্রতি আপনার গুরুত্ব, ভালবাসা ও মনোযোগের প্রশ্নে তাকে নিশ্চয়তা দিতে পারেন, প্রতিদানে তিনিও আপনাকে আপনার মতই গুরুত্ব, ভালবাসা ও মনোযোগ প্রদান করবেন। এর মাধ্যমেই মূলত আপনাদের যুগল জীবন মধুর ও প্রেমময় হয়ে উঠবে।

উৎসঃ   islamibarta

Comments

comments