আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রায়পাড়ায় জমি দখল

860

ঢাকার দোহারে থানা ম্যানেজ করে বিচারাধীন জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমিটি নিয়ে আদালতের স্থিতাবস্থা জারি রয়েছে। জিডি করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাইপাড়া মৌজার এসএ ৭০৮নং দাগের ২৫ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় মোফাজ্জল হোসেন মজনু গংদের সাথে ঐ এলাকার আলাউদ্দিন মোল্লা গংদের আদালতে মামলা চলছিল। ১৯৮২ সালে ক্রয় করার পর থেকে জমিটিতে মোফাজ্জল হোসেন মজনু গং ভোগ দখলে ছিল। আলাউদ্দিন গং জমিটি দখল নেয়ার চেষ্টা করলে মোফাজ্জল হোসেন মজনুর আবেদনে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিপক্ষ জমিটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। গত ৩ আগস্ট ভোর রাতে আলাউদ্দিন গং ৫০/৬০ জনের ভাড়াটে বাহিনী নিয়ে জমিটি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করতে থাকে। বিষয়টি পুলিশকে জানালেও তারা কোনো সহযোগিতা করেননি বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।

মোফাজ্জল হোসেন মজনু জানান, দলিলে চৌহদ্দি ঠিক থাকলেও ভুলক্রমে ৭০৮নং দাগের স্থানে ৭১১নং দাগ লিপিবদ্ধ হয়। এবিষয়ে আদালতে দাগ সংশোধনী মামলা চলমান। দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ১১/২০১২। আদালতে স্থিতাবস্থা জারি আছে। তবুও কিভাবে তারা জমিটি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে?

অন্য খবর  স্বাধীনতা দিবসে বর্ণিল সাজে রঙ্গিন দোহার নবাবগঞ্জ

মোফাজ্জল হোসেন মজনুর বোন শিমু আক্তার জানান, বাড়ির পুরুষরা ঢাকায় থাকে। বাড়িতে ছিলাম বৃদ্ধা মা ও আমি। দখলকারীরা জমিতে থাকা আমাদের ঘর ভেঙে দেয়। বাধা দিলে খুন করার হুমকি দেয় প্রতিপক্ষ। থানা-পুলিশে ফোন করেও সহযোগিতা পাইনি।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি থানার উপ-পরিদর্শক শফিউল আযম দু’পক্ষকে নিয়ে থানায় সালিশ বৈঠক ডাকেন। সালিশে আমাদের কোনো কথাই তিনি শোনেননি।

আলাউদ্দিন মোল্লার ভাই আব্দুল করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ৮/১০ দিন আগে জমিটি দখল করেছেন। তার জমিতে তিনি স্থাপনা নির্মাণ করছেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি কেউ জানায়নি।

এবিষয়ে দোহার থানার উপ-পরিদর্শক শফিউল আযম সালিশ বৈঠকের কথা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়টি ওসি সাহেব নিজে দেখেছেন। আপনি তার সাথে কথা বলেন।

দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাতের আঁধারে কেউ চুরি করে নির্মাণ কাজ করলে কারো কিছু করার থাকে না। তবুও খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

Comments

comments