আগের ফাইনালে কী হয়েছে, খেলোয়াড়েরা তা মনে রাখে না: শাহরিয়ার নাফীস

17
শাহরিয়ার নাফীস

মাশরাফি ভাইয়ের ক্যাচই টার্নিং পয়েন্ট:

কালকের ম্যাচের জন্য ব্যাটিংয়ে টার্নিং পয়েন্ট অবশ্যই মিঠুন ও মুশফিকের ওই জুটি। ওই সময় জুটিটা না হলে ম্যাচ বাংলাদেশের হাত থেকে ফসকে যেত। আর পরের ইনিংসে অবশ্যই মাশরাফি ভাইয়ের ওই ক্যাচ। শোয়েব মালিক এমন একজন ব্যাটসম্যান, যে ক্রিজে থাকলে ম্যাচটা বের করে আনার সামর্থ্য রাখে। ওই সময় মালিকের উইকেটটা বাংলাদেশকে আরও বেশি উজ্জীবিত করেছে। দলের সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, এই ম্যাচ জেতা সম্ভব।

আমাদের সৌভাগ্য, মাশরাফি ভাইয়ের মতো অধিনায়ক পেয়েছি:

দেখুন, মাশরাফি ভাই প্রমাণ করেছেন বয়স শুধুই একটা সংখ্যা। ফিটনেস আর ফর্ম থাকলে যে বয়স কোনো ব্যাপার নয় তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। এমনিতেই তিনি ফিল্ডার হিসেবে দারুণ। আর এই দলে যে শুধু অধিনায়কত্ব নয়, ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিং, তিন বিভাগেই অবদান রাখতে পারেন সেটাও আরেকবার প্রমাণ করেছেন। হাতে ব্যথা পাওয়ার পরও দলকে উজ্জীবিত রেখেছেন নিজের কারিশমা দিয়ে। পারফরম্যান্স দিয়েই তিনি দলে আছেন, এবং সে কারণেই সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে পারছেন। আমরা বাংলাদেশিরা খুব সৌভাগ্যবান যে মাশরাফি ভাইয়ের মতো একজন অধিনায়ক পেয়েছি।

মোস্তাফিজ সেরা ফর্মে ফিরছে:

মোস্তাফিজ চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে তার সেরা ফর্মে ফিরছে, এটা আমাদের জন্য খুবই সুসংবাদ। কালকের ম্যাচেও তার গতিটা বেশি ছিল, এ কারণে ব্যাটসম্যানদের বেশি ভোগাতে পেরেছে। বিশ্বকাপের এক বছর আগে এটা আমাদের জন্য খুব ভালো একটা বার্তা। একই সঙ্গে আমি বলব, বিশ্বকাপের আগে রুবেলও আমাদের বড় ভরসা। আমাদের বিগ ফাইভ তো আছেই, এর সঙ্গে মোস্তাফিজ ও রুবেলও ওয়ানডেতে আমাদের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠছে। আর মিরাজ যদি নিজেকে আরও শাণিত করতে পারে তাহলে বিশ্বকাপে এই আটজন হবে আমাদের অটোমেটিক চয়েস। এখন টপ অর্ডার যদি একটু ঠিকঠাক হয় তাহলে আমরা দুর্দান্ত একটা দল নিয়ে বিশ্বকাপে যেতে পারব।

অন্য খবর  অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয় ভারতের

খেলোয়াড়েরা আগের ইতিহাস মনে রাখে না:

হ্যাঁ, এর আগে বাংলাদেশ কখনো কোনো টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি, এশিয়া কাপেও দুই বার হেরেছে ফাইনালে। তবে আমি বলব, এটা কোনো মানসিক চাপ বা এমন কিছু নয়। একজন খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি, খেলোয়াড়দের ওপর আগের ইতিহাস খুব একটা প্রভাব ফেলে না, ওরা এসব বেশি মনে রাখে না। আর সবকিছুরই একটা প্রথম আছে, সেটা কালও হয়ে যেতে পারে। প্রথমটা পেতে একটু কষ্ট হয়, সেটা আমরা কালও পেয়ে যেতে পারি।

ভারত-বাংলাদেশ ফিফটি ফিফটি:

আমি দুই পক্ষের একদম সমান সমান সম্ভাবনা দেখছি। বাংলাদেশ-ভারত দুই দলই একই সমতায়। বাংলাদেশ টপ অর্ডার যদি রান নাও করতে পারে, মিডল অর্ডার তো ভরসা হিসেবে আছেই। এখানে আমার মনে হয়, ভারতের ওপেনিং জুটি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারে। বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে যদি ২৫০-৩০০ এর মধ্যে রান করতে পারে, আর বল হাতে শুরুতে যদি ওপেনিং জুটিটা বিচ্ছিন্ন করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচ বের করা খুবই সম্ভব। আর শুরুতে বল করলেও দুই ওপেনারকে বড় স্কোর গড়তে দেওয়া যাবে না। তাহলে আমাদের পক্ষে সেই রান তাড়া করা সম্ভব।

অন্য খবর  দ. আফ্রিকা সফরে বিশ্রাম পাচ্ছেন সাকিব

অপুকে খেলানো যেতে পারে:

একাদশ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। ওখানে আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট আছেন, তারা নিশ্চয়ই ভালো বোঝেন। সেই কাজটা আমি ওদের ওপরেই ছেড়ে দিতে চাই। তবে কাল যেহেতু ভারতের ডানহাতি ব্যাটসম্যানের আধিক্য, হয়তো সাকিব নেই বলে নাজমুল অপুকে একটা সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে অপু কার বদলে দলে আসবে, সেই সিদ্ধান্তও আমি টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর ছেড়ে দিতে চাই। দলে যে-ই আসুক, আমি মনে করি সে নিজেকে উজাড় করেই দেবে।

তামিম-সাকিব নেই, এটাই বাস্তবতা:

তামিম তো আগে থেকেই ছিল না, এবার সাকিবও নেই। অবশ্যই দুজন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়, একসঙ্গে তাদের না পাওয়া বড় একটা ধাক্কা। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এখন দলে যারা আছে তারা সেই অভাব পূরণ করতে পারে। সাকিব-তামিম নেই, এটা এখন বাস্তবতা । এই দুজনকে ছাড়াই আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।

শাহরিয়ার নাফীস- বাংলাদেশের হয়ে ২৪টি টেস্ট, ৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক।

Comments

comments