আগামী নির্বাচনঃ বিশেষ নজরদারিতে ৮৬ প্রকল্প

47

চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ আকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন করছে সরকার। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে দেয়া হয়েছে গুরুত্ব। এর অংশ হিসেবে ৩৫০ কোটি টাকা ওপরে বরাদ্দ পাওয়া ৮৬ প্রকল্পের বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। কেননা এসব প্রকল্পেই বরাদ্দ রয়েছে এডিপির একটি বড় অংশ। এজন্য আজ সোমবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) সঙ্গে বৈঠকে বসছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ বৈঠকের আয়োজন করেছে সরকারের একমাত্র প্রকল্প তদারকি সংস্থা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এর আগে এডিপি বাস্তবায়ন সর্বোচ্চ করতে ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এডিপির বাস্তবায়ন বাড়াতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন পর্যায় যেসব সংস্কার আনা হয়েছে, তেমনি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও তাগাদা দেয়া হচ্ছে। আশা করছি, চলতি অর্থবছর এডিপির সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

জানতে চাইলে আইএমইডির সচিব মো. মফিজুল ইসলাম রোববার যুগান্তরকে বলেন, ৩৫০ কোটি টাকার উপরের যেসব প্রকল্পের বরাদ্দ রয়েছে সেগুলোকে বড় প্রকল্প হিসেবে ধরা হয়। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে সার্বিক এডিপি বাস্তবায়নের সাফল্য। তাই আমরা সচিব ও প্রকল্প পরিচালকদের ডেকেছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে এসব প্রকল্পের অগ্রগতি কি অবস্থায় রয়েছে। তাছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে কোথাও সমস্যা থাকলে সেসব সমাধানে আলোচনা করা হবে। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই। তা হচ্ছে প্রকল্পের অগ্রগতি বাড়ানো।

অন্য খবর  বাংলাদেশসহ ৪ দেশে হতে পারে ভয়ংকর ভূমিকম্প!

চলতি অর্থবছরে ৩৫০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পদ্মা সেতু প্রকল্প, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো/সুবিধাদি উন্নয়ন, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট (মেট্রোরেল), সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন সড়ক টানেল নির্মাণ, সাসেক রোড কানেকক্টিভিটি : ইমপ্র“ভমেন্ট অব জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা রোড-৪ লেইন হাইওয়ে, মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ারর্ড প্রজেক্ট, ঘোড়াশাল-৩ রিপাওয়ারিং প্রকল্প, কনস্ট্রাকশন অব ঘোড়াশাল ৩৬৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, কনস্ট্রাকশন অব বিবিয়ানা-৩,৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট, খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল-ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ব্রডব্যান্ড ওয়ারল্যাস নেটওয়ার্ক স্থাপন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্প এবং পদ্মা (জলসদিয়া) ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্প।

সূত্র জানায়, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকার এডিপি হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) হতে জোগান দেয়া হচ্ছে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিভিন্ন সংস্থা ও কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

অন্য খবর  বগুড়ায় দেশের প্রথম সৌর সাইলো উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

এর বিপরীতে চলতি অর্থবছরের চার মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১১ শতাংশ। গত চার মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে মোট ২৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিলের (জিওবি) ১১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের এক মাসে অর্থাৎ শুধু অক্টোবর মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে ৭ হাজার ৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত অর্থবছরের অক্টোবর মাসে ব্যয় হয়েছিল ৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরের

এডিপির ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও ৫ শতাংশের নিচে এডিপি বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলো হচ্ছে- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইএমইডি, পিএসসি, দুদক ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

Comments

comments