সরকার অরাজকতার পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে জানে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘অরাজকতা সৃষ্টি করলে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, দমন করতে হয়, তা সরকার জানে।

সোমবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
এসময় হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গরম গরম বক্তৃতা করছেন। একটি কথা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে কোনও কিছু আদায় করা যাবে না। আন্দোলনের নামে আপনার আবার দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করবেন, ‘অরাজকতা সৃষ্টি করলে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, দমন করতে হয়, তা সরকার জানে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৩, ২০১৪ সালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন; জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দাঁত ভাঙা জবাব দেবে। আবার আগুন সন্ত্রাস সৃষ্টি করবেন, আবার গাড়ি ভাঙচুর করবেন, অপরাজনীতির মাধ্যমে জনগণকে অবরুদ্ধ করে রাখবেন। ইতোমধ্যে যেমন প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, চিরদিনের জন্য প্রত্যাখ্যাত হবেন। সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে কোনও লাভ হবে না।’
ঐক্য ফ্রন্টের নেতারা আলোচনা ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের নেত্রী দলীয় স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে সংলাপে সাড়া দিয়েছেন। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে , মাকে যারা হত্যা করেছে, ভাইকে যারা হত্যা করেছে, পরিবার পরিজনকে যারা হত্যা করেছে, শেখ হাসিনাকে যারা হত্যা করতে চায়, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন তিনি নিজে। বেশ কয়েকটা দাবি ঐক্যফ্রন্টের নেতারা দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সেগুলো পূরণ করেছেন। আমরা দেখতে পেলাম- তাদের কয়েকজন নেতা একদিকে আলোচনা করছেন, অন্যদিকে গরম বক্তৃতা দিচ্ছেন। গরম বক্তৃতা দিয়ে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন। অর্থাৎ আলোচনকে ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।’

অন্য খবর  গুণী ব্যক্তিদের সম্মানিত করা হবে; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আলোচনার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী অনেক কথাই বলেনি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে নেতারা বলছেন- প্রধানমন্ত্রী বড় বক্তৃতা দিয়েছেন। তার বক্তব্যে নাকি সমাধান ছিল না। তিন দশকের সমস্যা সাড়ে তিন ঘণ্টায় সমাধান করা সম্ভব নয়। এটা যে নাবালক থেকে সাবালক হয়েছে সেও বোঝে। এটা ঐক্যফ্রন্টের নেতারাও বোঝেন। সেদিন সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে কমপক্ষে সোয়া তিন ঘন্টা কথা তারা বলেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক কথা বলেন নাই, আমি হলে বলতাম- আপনারাই তো গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন নাই- আপনার নেত্রী গ্রেনেড হামলার জন্য দায়ী। আলোচনার স্বার্থে অনেক কথাই প্রধানমন্ত্রী বলেন নাই।’
পরিবেশ গরম হলে দায় ঐক্যফ্রন্টের উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আলোচনার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে আসুন। একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে। সব গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে, সরকার শুধু রুটিন কাজ করে তফসিল ঘোষণার পর, এখানেও তাই হবে। সংবিধানের বাইরে দাবি আদায়ের জন্য সরকারের ওপর চাপ দিয়ে কোনও লাভ হবে না। তাই অনুরোধ, সংলাপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী যেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, গরম বক্তৃতা দিয়ে সেই পরিবেশ নষ্ট করবেন না। পরিবেশ গরম করলে সেটার দায় দায়িত্ব আপনাদের ওপর বর্তাবে।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জিন্নাত আলী জিন্নাহ, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল প্রমুখ।

অন্য খবর  ঢাকার চারপাশে ৪টি ইকোপার্ক করা হবে;নৌমন্ত্রী

Comments

comments